Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে বেড়েছে ডিম উৎপাদন, ভিন জেলার চাহিদা পূরণই লক্ষ্য

ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে হুগলি জেলায়। সরকারি ও বেসরকারি— সব পরিসংখ্যান থেকেই অগ্রগতির চিত্র মিলেছে।

হুগলিতে বেড়েছে ডিম উৎপাদন, ভিন জেলার চাহিদা পূরণই লক্ষ্য
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে হুগলি জেলায়। সরকারি ও বেসরকারি— সব পরিসংখ্যান থেকেই অগ্রগতির চিত্র মিলেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষ অপেক্ষা ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় এক লক্ষ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষ এখনও শেষ হয়নি। এই হিসেব ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান হলো, হুগলিতে ফার্মের সংখ্যা ২০২২ সালে ছিল পাঁচটি। ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় সাতটি। কিন্তু উৎপাদন বেড়েছে চলতি বছরে এসে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দাবি, হুগলির সিংহভাগ বাজারে ডিমের চাহিদা পূরণ করে দিচ্ছে জেলায় উৎপাদিত ডিম। সরবরাহ হচ্ছে অন্য জেলাতেও। আবার ঘরোয়াভাবেও ব্যাপক সংখ্যায় ডিম উৎপাদন হচ্ছে।

Advertisement


কর্তাদের আরও দাবি, ফার্মের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালানো হচ্ছে। উৎসাহীদের চিকিৎসা থেকে উন্নত গুণমানের অনুখাদ্য, পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আর্থিক সাহায্য, সবই দেওয়া হচ্ছে। ফলে আর কিছুদিনের মধ্যেই হুগলি জেলা ডিম উৎপাদনে রাজ্যের অন্যান্য বাজারের চাহিদাও পূরণ করতে পারবে। হুগলি জেলা পরিষদের প্রাণিসম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা আইনজীবী নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, বাজার দখলের খতিয়ান নিয়ে আমরা এখনই ভাবছি না। এটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এখানে ডিমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সমস্ত স্তরের কর্তা ও কর্মীদের উদ্যোগে জেলায় ডিম উৎপাদনের পরিবেশ তৈরি করা গিয়েছে। সেটাই মূল উদ্দেশ্য ছিল। অনেক ছোটো ছোটো উদ্যোক্তা এখন মুরগি পালনে উৎসাহ দেখাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, সরকারি পরিসংখ্যানে কেবলমাত্র ফার্মগুলির অর্থাৎ বৃহৎ উদ্যোগের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। হুগলির ঘরে ঘরে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে যে সংখ্যক ডিম উৎপাদন হয়, তা স্থানীয় চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। হুগলি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক কর্তা বলেন, জেলাগুলিকে ডিম উৎপাদনে স্বনির্ভর হওয়ার বার্তা রাজ্যের তরফে আগেই দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গত কয়েক বছর ধরে নিরলস চেষ্টা করে চলেছি। তাতে ফার্মের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই ডিম উৎপাদনের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত, লাগাতার নজরদারি ও উন্নত পরিষেবা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তরফে দেওয়া হয়েছে। সেটাও সাফল্যের অন্যতম কারণ।


প্রাণিপালকদের ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য সম্প্রতি হুগলি জেলা রাজ্যস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছোটো ছোটো উদ্যোগীর হাত ধরেই বাড়ি বাড়ি হাঁস, মুরগি পালনের ঢল নেমেছে। কারণ, সরকারি ঋণ, নিখরচায় হাঁস-মুরগির ছানা মিলছে। এসব কারণেই ডিমের উৎপাদন লাফিয়ে বেড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ