নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোথাও খানাখন্দে ভরেছে পথ। কোথাও আবার রাস্তার অনেকটা অংশে পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে ‘ব্ল্যাক স্পট’ তৈরি হয়েছে। বেরিয়ে এসেছে রাস্তার হাড়পাঁজর। এই অবস্থায় পুজোর আগে শহরের পথঘাট ‘চলার যোগ্য’ করতে কাজ শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের বড়ো, মাঝারি এবং ছোটো মিলিয়ে প্রায় ৫০০ রাস্তা মেরামতির কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। যদিও মাঝেমধ্যেই দফায় দফায় বৃষ্টিতে সেই কাজ পণ্ড হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন পুরসভার আধিকারিকরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছেন, ১০ অক্টোবরের মধ্যে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি কলকাতার সমস্ত রাস্তাঘাট মেরামত করে ফেলা হবে। পুরসভার সড়ক বিভাগ সূত্রে খবর, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৭৬টি রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে রাস্তার বিভিন্ন অংশে কোথাও গর্ত তৈরি হয়েছে, কোথাও আবার উঁচু-নীচু ঢেউ খেলানো পথ। পিচের আস্তরণ উঠে গিয়েছে। এই অবস্থায় রাস্তাগুলির ঢেউ খেলানো অংশের পুরানো পিচ মিলিং মেশিন দিয়ে উঠিয়ে ফের পিচের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। তবে আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পুজোর আগে আপাতত মিলিং মেশিন দিয়ে পিচ কেটে রাস্তার কাজ খুব একটা হবে না। সার্বিকভাবে রাস্তা মসৃণ করার কাজ হবে পুজোর পর। আপাতত খানাখন্দ বুজিয়ে রাস্তা চলার যোগ্য করে তোলাটাই তাঁদের অগ্রাধিকার।
শহরের বড়ো বড়ো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পুর-সড়ক বিভাগ সামলালেও বিভিন্ন পাড়ার রাস্তা বা গলিপথ দেখাশোনা করে বরো ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে খবর, আপাতত চারশোর বেশি রাস্তা সংস্কারের জন্য ধরা হয়েছে। যদিও পুরকর্তারা জানাচ্ছেন, অন্যান্য বছর পুজোর আগে ওয়ার্ড পিছু পাড়ার রাস্তা বা গলিপথ সংস্কারের জন্য অন্তত ১০টি করে ফাইল তৈরি করা হত। অর্থাৎ ১৪৪টি ওয়ার্ড ধরলে সংখ্যাটা প্রায় ১৫০০। তবে চলতি বছর এই সংখ্যা অনেকটাই কম। এর কারণ ব্যাখ্যা করে এক অফিসার বলেন, ‘এবার ভোটের আগে আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে পাড়া এবং অলিগলির বহু রাস্তা সংস্কার হয়েছে। পালাবদলের পর সেই কাজ আটকে গেলেও কলকাতার ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে সেগুলির কাজ করার প্রয়োজন নেই। তাই ফাইলের সংখ্যাও কম।’