নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরসভার সংযুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত বেহালা, জোকা, ঠাকুরপুকুর, গড়িয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কেইআইআইপি প্রকল্পে ভূগর্ভস্থ নিকাশি পরিকাঠামো তৈরির কাজ হয়েছে। সেই কাজের জন্য রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছিল। কিন্তু তারপর রাস্তা ভালোভাবে মেরামত না করায় সেগুলির অবস্থা বেহাল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভও রয়েছে। এই অবস্থায় পুরসভা ওই এলাকার বিভিন্ন বড় ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলির মেরামতি কাজ চালাচ্ছে জোরকদমে। প্রায় ২৬ কিলোমিটার রাস্তার হাল ফেরানোর কাজ চলছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ বলে জানিয়েছে পুরসভা। তবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে কাজ করতে কিছুটা হলেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন পুরকর্তারা।
পুরসভার ১১ এবং ১৬ নম্বর বরো এলাকার সর্বত্র এবং ১৩ নম্বর বরোর একাংশে নিকাশি উন্নয়নের কাজ হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই ভাঙাচোরা বড় রাস্তাগুলি সারাইয়ের কাজ চলছে। পুরসভার সড়ক বিভাগ জানাচ্ছে, কেইআইআইপি যেসব এলাকায় কাজ করেছে, সেই এলাকায় মোট ৫৮টি রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি রাস্তার কাজ পুরোপুরি শেষ। সর্দারপাড়া, সোনালি পার্ক, ঋষি রাজনারায়ণ রোড, এইচ এল সরকার রোড, কালীপদ মুখার্জি রোড, হেমচন্দ্র মুখার্জি রোড, ভুবনমোহন রায় রোড, শরৎচন্দ্র রোড, কৈলাস ঘোষ রোড, সোদপুর ব্রিক ফিল্ড রোড, মালঞ্চ রোড, নালন্দা পার্ক সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রাস্তা নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। প্লাস্টিকের গুঁড়ো মিশ্রিত পিচের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে রাস্তাগুলিতে। বৃষ্টিতেও রাস্তা টেকসই করার জন্য এই পন্থা বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিভাগীয় আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, সংযুক্ত এলাকায় কেইআইআইপি প্রকল্পের কাজের জায়গাগুলিতে বেহাল সড়ক দ্রুত সারাই করতে হবে। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দেন ফিরহাদ। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেই কাজ শেষ করতে এখন রীতিমতো চিন্তায় পুরকর্তারা। সড়ক বিভাগের এক অফিসার বলেন, ‘বেহালা, ঠাকুরপুকুর, জোকা, গড়িয়াজুড়ে বহু রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। অনেকটা কাজ শেষ হয়েছে। তবে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এবং মেঘলা আবহাওয়া থাকছে, তাতে রোদ না উঠলে পিচের রাস্তা টেকানো কঠিন। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করতেও সমস্যা হচ্ছে। তবে মেয়রের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই মেরামতির কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর আমরা।’ নিজস্ব চিত্র