Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বন্ধ থাকা হোটেল ও গেস্ট হাউস খোলার তোড়জোড়, বিদ্যুতের লোড ও নির্মাণের রেগুলারাইজেশন সার্টিফিকেটে জোর

আদালতের গুঁতো খেয়ে আপাতত শহরের বিভিন্ন হোটেল এবং গেস্ট হাউসে ধরপাকড় বন্ধ রেখেছে কলকাতা পুরসভা।

বন্ধ থাকা হোটেল ও গেস্ট হাউস খোলার তোড়জোড়, বিদ্যুতের লোড ও নির্মাণের রেগুলারাইজেশন সার্টিফিকেটে জোর
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আদালতের গুঁতো খেয়ে আপাতত শহরের বিভিন্ন হোটেল এবং গেস্ট হাউসে ধরপাকড় বন্ধ রেখেছে কলকাতা পুরসভা। এখন ক্লোজার নোটিসের জেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া হোটেল-গেস্ট হাউসগুলি খুলতে জোর দিচ্ছে পুরসভা। সিল করে দেওয়া হোটেলগুলি যাতে ফের চালু হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। সেই আবেদন খতিয়ে দেখে পুনরায় ব্যবসা চালুর অনুমোদন দেবে হাই পাওয়ার কমিটি। সূত্রের খবর, মূলত দু’টি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, বিদ্যুতের লোড সার্টিফিকেট এবং দ্বিতীয়ত, বেআইনি নির্মাণের অংশটি রেগুলারাইজ করা। 

Advertisement

মির্জা গালিব স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর যৌথ টিম গড়েছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। এখানে পুরসভার বিল্ডিং, লাইসেন্স বিভাগ ছাড়াও পুলিশ, দমকল, কেএমডিএ, সিইএসসি সহ একাধিক সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের স্ক্যানারে ছিল লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় সাড়ে চার হোটেল এবং গেস্ট হাউস। পুরসভা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই প্রায় ১,১০০টি জায়গা পরিদর্শন করে তারা ৯১৯টিরও বেশি হোটেল এবং গেস্ট হাউস বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশের সহযোগিতায় তালা ঝোলানো হয়েছে সেখানে। এদিকে, ক্লোজার নোটিস পাওয়া ৩০০টিরও কিছু বেশি হোটেল এবং গেস্ট হাউস ফের ব্যবসা চালুর আবেদন জানিয়েছে। হাই পাওয়ার কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ডের পিছনে দায়ী বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোড। ওভারলোড হলেই শর্ট সার্কিট হয়। তার থেকেই বড়ো বড়ো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রেও বিভিন্ন হোটেল এবং গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষকে বিদ্যুতের লোড সার্টিফিকেট জমা করতে বলা হয়েছে। অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, মিটারে যে পরিমাণ লোড সরকারিভাবে খাতায় নথিভুক্ত, তার থেকে অনেক বেশি লোড নিয়ে চলছে হোটেলগুলি। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে বিদ্যুতের লোড সার্টিফিকেট জমা করতে বলা হয়েছে।
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কর্তারা জানিয়েছেন, বহু জায়গায় বেআইনি নির্মাণ নজরে এসেছে। একটা বড় ঘরের মাঝে দেওয়াল তুলে তিন-চারটি ছোটো ছোটো রুম বানিয়ে গেস্ট হাউস বা হোটেল হিসাবে চালানো হচ্ছে। বহু জায়গায় অপ্রশস্ত করিডর। বিল্ডিংয়ের অন্দরে নির্মাণের ক্ষেত্রেও বহু বেনিয়ম নজরে এসেছে। তাই সংশ্লিষ্ট হোটেল বা গেস্ট হাউসের মালিককে বিল্ডিং আইনের নিয়ম অনুযায়ী রেগুলারাইজেশন করতে বলা হয়েছে। মূলত লোডিং এবং রেগুলারাইজেশন— এই দু’টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
 মির্জা গালিব স্ট্রিটের সেই অভিশপ্ত হোটেল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ