Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গঙ্গার ভাঙন রোধের কথা শুধু ভাষণেই, মোদির আশ্বাস সত্ত্বেও বিজেপির সংকল্প পত্রে একটি শব্দও নেই, ক্ষোভ

গঙ্গার ভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গালভরা প্রতিশ্রুতিই সার। বিজেপির নির্বাচনি ইস্তাহার বা সংকল্প পত্রে নেই ভাঙন নিয়ে একটি শব্দও।

গঙ্গার ভাঙন রোধের কথা শুধু ভাষণেই, মোদির আশ্বাস সত্ত্বেও বিজেপির সংকল্প পত্রে একটি শব্দও নেই, ক্ষোভ
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপন দত্ত, মালদহ: গঙ্গার ভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গালভরা প্রতিশ্রুতিই সার। বিজেপির নির্বাচনি ইস্তাহার বা সংকল্প পত্রে নেই ভাঙন নিয়ে একটি শব্দও। ক্ষোভে ফুঁসছেন মালদহের মানিকচক, রতুয়া, বৈষ্ণবনগরের ভাঙন দুর্গতরা।

Advertisement

মালদহের নিত্যানন্দপুরের জনসভা থেকে ভাঙন রোধে মোদি বলেছিলেন, গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ভাঙনে ফি বছর শতাধিক ঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। গঙ্গা, মহানন্দা ও ফুলহারের ভাঙন রোধে পাকাপোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
নদী ভাঙন মালদহ জেলার একটি জ্বলন্ত সমস্যা। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার মানুষ ভাঙনের জেরে ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছে। কালিয়াচকের একট আস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত কেবি ঝাউবোনা গঙ্গায় তলিয়ে যায়। পুরাতন মালদহের নিত্যানন্দপুরের সভায় মোদির ভাঙন রোধের বক্তব্য শুনে হাততালি পড়েছিল। সেই জনসভার পর বেশিদিন হয়নি। তারই মধ্যে গত সপ্তাহে বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশ করেন অমিত শাহ। ১৫ দফা সেই সংকল্প পত্রে গঙ্গা ভাঙন রোধের কোনো উল্লেখ নেই। যা দেখে হতাশ মালদহের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাঙন কবলিত হাজার হাজার মানুষ।  
মালদহের মানিকচক, রতুয়া এবং বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ভাঙন পীড়িত। কয়েক দশক ধরে ভাঙন সমস্যা থেকে রেহাই পায়নি এই তিন বিধানসভার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ। আজ, মঙ্গলবার মানিকচক বিধানসভায় নির্বাচনি সভা করবেন শাহ। ভাঙন পীড়িতদের দাবি, বিজেপির নির্বাচনি ইস্তাহারে ভাঙন রোধের জন্য কিছুই উল্লেখ নেই। তাঁরাও দেশের বৈধ ভোটার। তাহলে তাঁদের সমস্যার কথা কেন বিজেপির ইস্তাহারে নেই? 
মালদহ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, গত সাত বছরে গঙ্গা ভাঙন রোধে একাধিকবার কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু প্রতিবারই আমাকে বলা হয়েছে ভাঙন রোধে রাজ্য সরকারকে ডিপিআর (ডিটেইল প্রোজেক্ট রিপোর্ট) তৈরি করে পাঠাতে হবে। রাজ্য আজ পর্যন্ত কেন সেই রিপোর্ট পাঠাল না? আসলে তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙন নিয়ে রাজনীতি করতে চায়। 
পালটা তৃণমূলের দাবি, নদী ভাঙন একটি জাতীয় বিপর্যয়। এখানে কেন্দ্রের প্রাপ্য সহযোগিতা থেকে বাংলার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সমর মুখোপাধ্যায় বলেন, ভাঙন রোধে কেন্দ্র কোনো সাহায্য করে না। 
মালদহের মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর এবং গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষ ভাঙন পীড়িত। রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের মহানন্দটোলা এবং বিলাইমারি ও বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বীরনগর -১ এবং ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত, পারদেওনাপুর শোভাপুর, কৃষ্ণপুর, এবং লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত গঙ্গা ভাঙন কবলিত এলাকা। এই তিন বিধানসভার প্রায় দু’লক্ষ মানুষ ভাঙন কবলিত। তাদের সমস্যার কথা সংকল্প পত্রে উল্লেখ করেনি বিজেপি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ