ভোপাল: বিয়ের পর কোনও মহিলাকে পড়াশুনোয় বাধা দেওয়া তাঁর স্বপ্ন ধ্বংস করার শামিল। তাছাড়া, নিরক্ষর বা উন্নতিতে আগ্রহী নন, এমন কোনও ব্যক্তির সঙ্গে থাকতে তাঁকে চাপাচাপি করা মানসিক নিষ্ঠুরতা। এক বিবাহ বিচ্ছেদ মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।
জানা গিয়েছে, সাহাজাপুরের একটি পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছিলেন এক মহিলা। তিনি জানান, ২০১৫ সালে ওই এলাকারই যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তারপর দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন। আরও পড়াশুনোর করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু, শ্বশুড়বাড়ি লোকজন সেই অনুমতি দেয়নি। লেখাপড়ার সুযোগ না পাওয়ায় কিছুদিনের মধ্যে তিনি বাপের বাড়ি ফিরে যান। পারিবারিক আদালতে ডিভোর্সের মামলা দায়ের করেন। তাঁর আর্জি খারিজ করে স্বামীর সঙ্গে সংসার করার নির্দেশ দেয় ওই আদালত। সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। গত ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিবেক রুশিয়া ও বিচারপতি গজেন্দ্র সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি ছিল। সেখানে বিবাহ বিচ্ছেদের আর্জি মঞ্জুর করেছে আদালত। হাইকোর্ট জানিয়েছে, শ্বশুড়বাড়িতে ওই মহিলাকে পড়াশুনো করতে দেওয়া হচ্ছিল না। বৈবাহিক জীবনের শুরুতেই লেখাপড়া বিরোধী যে আবহ তৈরি করা হয়েছিল, তা মহিলার সমস্ত স্বপ্ন শেষ করে দেওয়া সামিল। তাছাড়া, ২০১৫ সালে বিয়ে হলেও মাত্র তিনদিন স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ছিলেন। মহিলার কাছে ওই দিনগুলি দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়ে গিয়েছে। তাঁরা আর কখনও একসঙ্গে থাকেননি।