Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষাদপ্তরের বরাদ্দকৃত ৫৪ লক্ষ টাকার হিসেব দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ

গত সাত বছর ধরে বারবার চাওয়া সত্ত্বেও সরকারি বরাদ্দের ৫৪ লক্ষ টাকার হিসেব দিচ্ছে না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

শিক্ষাদপ্তরের বরাদ্দকৃত ৫৪ লক্ষ টাকার হিসেব দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গত সাত বছর ধরে বারবার চাওয়া সত্ত্বেও সরকারি বরাদ্দের ৫৪ লক্ষ টাকার হিসেব দিচ্ছে না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাঁকুড়া-২ ব্লকের মানকানালি অঞ্চলের মগরা উচ্চ বিদ্যালয় কার্যত জেলা প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরকে থোরাই কেয়ার করছে বলে অভিযোগ। স্কুলে গিয়েও কার্যত খালি হাতে ফিরতে হয়েছে প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকদের। ঘটনায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বরাদ্দ হওয়া লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপ করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলনে নেমেছেন। মঙ্গলবার দীর্ঘক্ষণ স্কুলের শিক্ষকদের আটকে রেখে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখান। অবিলম্বে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থে বকেয়া উন্নয়নমূলক কাজ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে বলে বাসিন্দারা হুঁশিয়ারি দেন। বাঁকুড়া সদর থানার পুলিস গিয়ে প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্যদের উদ্ধার করে। ঘেরাও মুক্ত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর চিকিৎসা করাতে হয়েছে বলে পুলিস জানিয়েছে। 

Advertisement

বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পীযূষকান্তি বেরা বলেন, ২০১৮-’২২ সালের মধ্যে ওই বিদ্যালয়কে শ্রেণিকক্ষ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সহ অন্যান্য কাজের জন্য ৫৪ লক্ষ ৫৬ হাজার ৭৮৭ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে বারবার ‘ইটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ চাওয়ার পরেও প্রধান শিক্ষক তা আমাদের দেননি। স্কুলের অডিট রিপোর্টও আমরা পাইনি। কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের সঙ্গে আমি ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কিন্তু, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও হিসেব দিতে পারেনি। আমরা সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। ওই সময়সীমাও অতিক্রান্ত হয়েছে। ফের প্রধান শিক্ষক এক মাস সময় চেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।
প্রধান শিক্ষক মুকেশ পাত্র বলেন, সরকারি টাকা স্কুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে। মার্চ মাস হওয়ার কারণে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অ্যকাউন্টের হিসেব দেয়নি। সেই কারণে শিক্ষাদপ্তরকে জানাতে পারিনি। আগের সংস্থা রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় গত তিন বছর ধরে আমরা অডিট করাইনি। কোভিডের জন্য মাঝে বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির বৈঠক হয়নি। তারফলে কাজ করা যায়নি। তারপর আমার পা ভেঙে গিয়েছিল। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন স্কুলে যেতে না পারার ফলেও উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করতে পারিনি।  
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন কর্মকার, মানিক রানা বলেন, গত সাত বছরের স্কুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া সত্ত্বেও অভিভাবকদের দেওয়া হচ্ছে না। অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠকও করা হচ্ছে না। করোনা বা প্রধান শিক্ষকের পা ভাঙার জন্য সাত বছর ধরে শ্রেণিকক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বা বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের কাজ করা যায়নি, এই অজুহাত মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি টাকা তছরুপ করা হয়েছে বলে আমরা সন্দেহ করছি। ফলে অবিলম্বে তদন্ত করে পুরো বিষয়টি খোলসা করার জন্য প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে। স্কুল পরিচালন সমিতিও এর দায় এড়াতে পারে না। অভিভাবকদের এব্যাপারে অন্ধকারে রাখার চেষ্টা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। প্রয়োজনে ফের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ঘেরাও করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ