Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানিবাঁধে কংসাবতীর গ্রাস থেকে স্কুল বাঁচাতে উদ্যোগী শিক্ষাদপ্তর

রানিবাঁধে কংসাবতীর গ্রাস থেকে স্কুল বাঁচাতে উদ্যোগী শিক্ষাদপ্তর
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: কংসাবতীর গ্রাস থেকে জামদা প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রক্ষা করতে উদ্যোগী হল শিক্ষাদপ্তর।  বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ(ডিপিএসসি) এব্যাপারে সেচদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পাড় ভেঙে কংসাবতী নদী রানিবাঁধ ব্লকের হলুদকানালি অঞ্চলের জামদা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয় ভবন আগামী দিনে নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে বলে জামদা গ্রামের বাসিন্দাদের আশঙ্কা। সম্প্রতি ‘বর্তমান’ পত্রিকায় এব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তারপর শিক্ষা বিভাগ নড়েচড়ে বসে। ডিপিএসসি কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগী হয়েছে।

Advertisement

বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান শ্যামল সাঁতরা বলেন, জামদা প্রাইমারি স্কুলের অবস্থা শোচনীয়। বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও রিপোর্ট নিয়েছি। তারপর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সেচদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করি। এবছর বর্ষা দোরগোড়ায় চলে এসেছে। বর্তমানে নদী ভাঙন রোধে ওই জায়গায় কোনও প্রকল্প রূপায়ণ সম্ভব নয়। তবে আগামী বর্ষার আগে স্কুল ভবন সংলগ্ন নদীর পাড়ে গার্ডওয়াল নির্মাণ করা হবে।
সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজয় গড়াই বলেন, ভাঙনের জেরে ইতিমধ্যে স্কুলের কয়েক কাঠা জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। বাকি জমি ও স্কুল ভবন রক্ষা করতে অবিলম্বে গার্ডওয়াল দেওয়া প্রয়োজন। ডিপিএসসি কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ায় আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মাধব সর্দার বলেন, শুখা মরশুমে নদীতে জল থাকে না। তখন কোনও সমস্যা হয় না। কিন্তু, বর্ষায় কংসাবতী কানায় কানায় বইতে থাকে। ওই সময় শিশুদের স্কুলে পাঠাতে আমাদের চিন্তা হয়। অভিভাবকরা বাড়িতে উদ্বেগে থাকেন। শিক্ষাদপ্তর ও সেচদপ্তর বিদ্যালয়কে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সমস্যার সমাধান হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্ষায় নদীর জলের স্রোত বৃদ্ধি পায়। জামদা গ্রাম সংলগ্ন নদীর গভীরতা অনেক বেশি। ফলে, জলের স্রোতে নদীর পাড়ের মাটি দ্রুত ধসে যায়। গাছ, বাঁশঝাড়, চাষের খেত থেকে স্কুলের জায়গা সবকিছুই নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। আগে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেশি ছিল। গত কয়েকবছরে তা কিছুটা কমেছে। একসময় স্কুলের দিকে প্রশাসনের তরফে গার্ডওয়াল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, কোনও কারণে তা কার্যকর করা হয়নি। 
এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্কুল ভবন থেকে মাত্র ১০০ফুট দূরে নদী বয়ে চলেছে। বিদ্যালয়ের পাশে নদী প্রায় ৩০ফুট গভীর। বর্তমানে জামদা প্রাইমারি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৮জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে। সেখানে দু’জন শিক্ষক রয়েছেন। ১৯৫৬ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এখনও পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রায় ১০কাঠা জায়গা কংসাবতীর গ্রাসে চলে গিয়েছে। তা মাপজোখ করে বের করার পর মাটি ভরাট ও তারপর নদী তীরে গার্ডওয়াল দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ