নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সোমবার সাতসকালে আচমকা সাঁইথিয়া পুরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মায়া সাহার বিলাসবহুল বাড়ির সামনে পরপর তিনটি গাড়ি দাঁড়ায়। গাড়িগুলি থেকে ইডির পাঁচজন আধিকারিক নেমে বাড়ির সদর গেটের সামনে আসেন। সিসি ক্যামেরায় সেই দৃশ্য দেখেই পরিবারের লোকজন নীচে নামেন। সদর দরজা খুলতেই ইডি আধিকারিকরা কাউন্সিলারের বাড়ির ভিতরে ঢোকেন। বাইরে কড়া নজরদারি চালান কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। স্বামী ও ছেলের উপস্থিতিতে কাউন্সিলারকে টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জেরা করা হয়। কাউন্সিলারের সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। মায়াদেবী ধৃত বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার পিসি। স্বাভাবিকভাবেই নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ধৃতের পিসির বাড়িতেও ইডি হানা দিয়েছে জানতে পেরে এদিন কৌতূহলী মানুষজন কাউন্সিলারের বাড়ির সামনে উঁকিঝুঁকি মারেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ কাউন্সিলারের।
এদিন সকাল পৌনে ৭টা নাগাদ ইডির আধিকারিকরা কাউন্সিলারের বাড়িতে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর ১২টা নাগাদ তাঁরা ওই বাড়ি ছেড়ে চলে যান। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের মাঝেই তাঁরা বেশকিছু নথিও সংগ্রহ করেছেন। একসময় ইডির দুই আধিকারিক স্থানীয় একটি সাইবার ক্যাফে থেকে ১৭ পাতার কিছু নথি প্রিন্ট করিয়েছিলেন। মূলত কাউন্সিলারের বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা জানতে ইডি আধিকারিকরা এদিন হানা দিয়েছিলেন বলেই সূত্রের খবর। সেক্ষেত্রে সম্পত্তির নথিপত্র নিয়ে ওই কাউন্সিলারকে আগামী ২৮আগস্ট কলকাতায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
কাউন্সিলারের বাড়িতে ইডির হানার পরই বিলাসবহুল বাড়ি, লজ ও শপিং মলের মালিকানা নিয়ে সাঁইথিয়া শহরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও কাউন্সিলারের শ্বশুরবাড়ির লোকজন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চাননি। কাউন্সিলারের দাদা অর্থাৎ ধৃত বিধায়কের বাবা বিশ্বনাথ সাহা অবশ্য দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।
মায়াদেবী গৃহবধূ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর স্বামী সুব্রত সাহা একসময় ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় ১৫ বছর আগে মায়া শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। দলীয় সূত্রের খবর, গত পুরসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের টিকিট পান। ভোটে জিতে ৯নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হন। বিশ্বনাথবাবু বলেন, মায়ার রাজনৈতিক উত্থানের নেপথ্যে জীবনকৃষ্ণের অবদান রয়েছে। কাউন্সিলার হওয়ার আগে ওর তেমন কোনও সম্পত্তিই ছিল না। শুধু একটি মিষ্টির দোকান ছিল। যদিও মায়াদেবী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাইপোর সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক। তবে অন্য কোনও বিষয়ে কোনও যোগ নেই। ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি করেও কিছু পাননি। আগামী ২৮আগস্ট ডেকে পাঠিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। দলীয় কাউন্সিলারের বাড়িতে ইডির হানায় কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আইন আইনের পথে চলবে। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু বলার নেই। যদিও জেলা বিজেপি নেতৃত্ব সুর চড়িয়েছে। জেলা সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, চুরির ভাগ যারা খেয়েছে তাদের জেল খাটতে হবে। এখানে কোনও দ্বিমত নেই। এটা সবে শুরু।-নিজস্ব চিত্র