চেন্নাই, ৪ মার্চ: বিরোধীদের কণ্ঠস্বর রোধ করা হচ্ছে, বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এই কথা বারবারই শোনা গিয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূলের মতো বিরোধী দলগুলির তরফে বারবার এই অভিযোগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কিংবা বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বললেই কণ্ঠ রোধ করা হয়। বিরোধী দলের নেতাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইডি-সিবিআই। এবার একই ঘটনা ঘটল তবে কোনও রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে নয়। সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি হলেন গোকুলাম গোপালন। সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত সিনেমা ‘এল ২: এমপুরানের’ অন্যতম প্রযোজক।
পৃথ্বীরাজ সুকুমারণ অভিনীত ও পরিচালিত এই সিনেমাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক হয়। ২০০২ সালের গোধরা পরবর্তী হিংসার দৃশ্য দেখানো ও আরএসএসের কিছু এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলায় কেরল বিজেপির তরফে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। মুক্তির পরেও সেন্সর বোর্ডের তরফে এই সিনেমার নির্মাতাদের বলা হয় ১৭টি দৃশ্যে কাঁচি চালাতে। সেই দাবি মেনে ১৭টির বেশি দৃশ্যে কাঁচি চালানো হয়। যদিও তারপরেও শান্ত হয়নি সঙ্ঘ, এমনটাই অভিযোগ। ক্রমাগত এই সিনেমাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা। পরিচালক তথা অভিনেতা পৃথ্বীরাজকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ করছেন। এমনকী এই সিনেমার মুখ্য অভিনেতা মোহনলালকেও আক্রমণ করতে ছাড়েনি সঙ্ঘ। এবার সেই সিনেমার প্রযোজকের একাধিক অফিসে হানা দিল ইডি।
আজ, শুক্রবার সকাল থেকেই গোকুলাম গোপালনের চিট ফান্ড কোম্পানির অফিস সহ একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যদিও এই তদন্তের সঙ্গে সিনেমার কোনও যোগ নেই বলেই জানিয়েছে ইডি। তাঁদের দাবি, গোকুলাম গোপালনের চিট ফান্ড কোম্পানি গোকুল চিট ফান্ডসের বিরুদ্ধে ১০০০ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রার দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকী ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগও করেছেন অনেকে। তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু, দাবি ইডির। তবে এই প্রথম নয়। সংস্কৃতি জগতের কোনও ব্যক্তি সরকার বিরোধী সিনেমা বানিয়ে কিংবা কথা বলে আগেও বিপাকে পড়েছেন।