নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা তারকেশ্বর: সাতসকালে ইডির হানা শহরে। এবার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়িতে পৌঁছল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর ভুয়ো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি। সূত্রের খবর, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সাতসকালেই প্রাক্তন মন্ত্রীর কসবার বাড়ি সহ কলকাতার মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলাচ্ছে ইডি। এর মধ্যে তাঁর আত্মীয়দের বাড়িও রয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি শহরতলী সিঙ্গুরেও ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে আধিকারীকরা। 'মোহর' নামক তাঁর বাগানবাড়িতে ভোর থেকেই পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন আজ থেকে আট-দশ বছর আগে ফাঁকা জায়গা কিনে এই বাগানবাড়িটি তৈরি করেছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী। বিভিন্ন সময় তাঁর কনভয় এবং বহিরাগতরা এখানে যাতায়াত করত বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ, দুর্গাপুজোর আগে ‘পুজো পরিক্রমা’র নামে ভুয়ো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তুলতেন ইন্দ্রনীল। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অনুমান। অভিযোগের সূত্রপাত গত জুন মাসে। বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রীর এবং একটি সংস্থা ‘মাস আর্ট’ এর নামে একটি অভিযোগ দায়ের হয়। কলকাতার বিভিন্ন দুর্গাপুজো ঘোরার সুযোগ করে দিত এই সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের কাছে পাস বিক্রি করা হত। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েই আর্থিক দুর্নীতি চলত বলে অভিযোগ। পাসগুলির বৈধতা নিয়ে প্রথমত প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ আরও গুরুতর হয়েছে ‘ইউনেস্কো’র নাম ব্যবহারের কারণে। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর, কয়েক মাসের মধ্যেই ‘মাস আর্ট’ নামে ওই সংগঠনটি তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। নিজেদের কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রচারের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর ‘অফিশিয়াল পার্টনার’ হিসেবেও তুলে ধরা হত বলে অভিযোগ রয়েছে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অনুমতি ছাড়াই ইউনেস্কোর নাম এবং লোগো ব্যবহার করে পাসের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।