নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইউনেসকোর নাম ভাঁড়ানো দুর্গাপুজোর এন্ট্রিপাস দুর্নীতিকাণ্ডে রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি, সিঙ্গুরের ফার্ম হাউস সহ ১০ ঠিকানায় মঙ্গলবার সকালে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে এদিন সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব ক’টি জায়গায় পৌঁছে যায় ইডি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সির হানা চলেছে বলে খবর। প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধে ইউনেসকোর নাম ও লোগো ব্যবহার। এবং শহরের ২৪টি দুর্গাপুজোর বিশেষ প্রিভিউয়ের নামে চড়া দামে এন্ট্রিপাস বিক্রির মাধ্যমে মোটা টাকা রোজগারের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি লোগো জাল করা ওই এন্ট্রিপাসে রাজ্য সরকারের তৎকালীন পর্যটন দপ্তরের সিলমাহর কীভাবে ব্যবহার করা হল, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর গত ৪ জুন বউবাজার থানায় এই মর্মে ইন্দ্রনীলবাবু ও তাঁর স্ত্রী সহ মোট পাঁচজনের নামে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করেন জয়দীপ ও সগুনা মুখোপাধ্যায় নামে এক দম্পতি। ওই সময় গোটা বিষয়টি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছিলেন ইন্দ্রনীল। মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, এভাবে গত ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪ সাল মিলিয়ে ১ লক্ষ ১৪ হাজার এন্ট্রিপাস বিক্রি করে কমপক্ষে ৬০-৭০ কোটি টাকা রোজগার করা হয়েছে। ঘুরপথে এই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ। এন্ট্রিপাস বিক্রি করে আসা টাকায় কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের ‘সুবিধা’ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফর্মেশন রিপোর্ট (ইসিআইআর) দায়ের করে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বলছে, মাস আর্ট নিজেদের ইউনেসকোর প্রতিনিধি বলে দাবি করলেও, দুর্গাপুজোর এন্ট্রিপাস বিক্রি করা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের ওই শাখার হয়নি।
কসবার আবাসস্থলের পাশাপাশি, সিঙ্গুরের ছুটিপুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়ি ‘মোহর’, হিন্দুস্তান পার্কে এক আত্মীয়ের বাড়ি, হাইল্যান্ড পার্ক ও সল্টলেকের সিএফ-৩৯১ নম্বর সহ মোট ১০টি জায়গায় ইডি’র অভিযান চলে। সিঙ্গুরের বাগানবাড়িতে অভিযান চলাকালীন প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেপ্তারির দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। তদন্তকারীরা বলছেন, কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেসকো স্বীকৃতি পাওয়ার পরই তার ‘ফায়দা’ তোলার চেষ্টা শুরু হয়। অভিযোগ, ২০২২ সালে মাস আর্ট সংস্থা তৈরি হওয়ার পর নিজেদের ইউনেসকোর প্রতিনিধি দাবি করে তারা পুজো প্রিভিউয়ের আয়োজন করে। পরপর তিন বছর এই প্রিভিউয়ের আয়োজন করে দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং পুজোপ্রেমী মানুষের কাছে এন্ট্রিপাস বিক্রি করা হয়। সর্বনিম্ন ১৭৪৯ এবং সর্বোচ্চ ৫৪৯৯ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে পাসগুলি। প্রথম বছর ১৯ হাজার, দ্বিতীয় বছর ৩৪ হাজার এবং তৃতীয় বছর ৬১ হাজার মানুষের কাছে এন্ট্রিপাস বিক্রি করেছিল মাস আর্ট।