নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের পর শহরের নির্মীয়মাণ বিল্ডিংগুলির ‘অডিট’ শুরু হয়েছে। সমীক্ষা করে এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৫টি নির্মাণকে পুনরায় কাজ চালুর জন্য ‘গো অ্যাহেড’ ছাড়পত্র দিয়েছিল অডিট কমিটি। সেখানে অডিটের আওতায় রয়েছে শহরের ৩৪৪টি নির্মাণ। এখানেই অভিযোগ, অত্যন্ত ঢিমেতালে অডিট কমিটির স্ক্রুটিনির কাজ। তার উপর নিত্যনতুন ‘ফরমান’ দিচ্ছে কমিটি। অডিট কমিটি চাইছে, শুধু কন্ট্রাক্টর বা ডেভেলপারের লেবার লাইসেন্স থাকলেই চলবে না। সংশ্লিষ্ট নির্মাণভিত্তিক লেবার রেজিস্ট্রেশন দরকার। তা নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। বেআইনি নির্মাণ বা পরিকাঠামোগত ত্রুটি-বিচ্যুতি না থাকলেও শুধুমাত্র এই লেবার রেজিস্ট্রেশনের শর্তে কাজ চালুর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। আবার বলা হয়েছে, স্ট্রাকচারাল ডিজাইনে কোনো খামতি ধরা পড়লে যাদবপুর বা শিবপুর আইআইইএসটির বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে সার্টিফিকেট নিতে হবে। না হলে নির্মাণকাজ চালুর ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আবাসন নির্মাণকারীদের সংগঠন ‘ক্রেডাই’-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডে। সূত্রের খবর, সেখানে ‘ক্রেডাই’-এর তরফে এসব বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এভাবে দিনের পর দিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলে আখেরে অর্থনীতি ধাক্কা খাবে বলে মনে করছে তারা। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্কওকরেছে আবাসন নির্মাণকারীদের সংগঠনটি।
ফিল্ড সার্ভেতে বড়োসড়ো বেআইনি নির্মাণ বা ত্রুটিবিচ্যুতি সেভাবে ধরা না পড়লেওবিভিন্ন কন্ট্রাক্টরের শ্রমিক নিয়োগ ও সুরক্ষার (লেবার কমপ্লায়েন্স) প্রশ্নে কিছু গাফিলতি সামনে এসেছে। তাই এখনও পর্যন্ত ২৩টি নির্মাণের ফাইল কমিটি পুরসভাকে ফেরত পাঠিয়েছে। বলা হয়েছে, নির্মাণভিত্তিক লেবার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট জমা দিতেই হবে। এখানেই অডিট কমিটির চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, যে কোনো ডেভেলপার বা কন্ট্রাক্টরের লেবার লাইসেন্সথাকেই। তার ভিত্তিতে সেই কন্ট্রাক্টর কোনো নির্মাণস্থলে শ্রমিক নিয়োগ করেন। কিন্তু, নির্মাণভিত্তিক লেবার রেজিস্ট্রেশন আগে কোনোদিন লাগেনি। সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে, নির্মাণভিত্তিক লেবার লাইসেন্স করতে গেলে ছোটো ছোটো কন্ট্রাক্টররা সমস্যায় পড়বেন। তাছাড়া বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। তাই ‘ক্রেডাই’-এর পরামর্শ, ডেভেলপারদের থেকে মুচলেকা (আন্ডারটেকেন) নেওয়া হোক যে আগামী দু’মাসের মধ্যে লেবার রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজকর্ম তারা সেরে ফেলবে। কিন্তু এভাবে মাসের পর মাস নির্মাণ বন্ধ যেন না রাখা হয়। কিন্তু কমিটি সেই দাবিতে মান্যতা দেয়নি। আবাসন নির্মাণকারী সংগঠনের এক কর্তা বলেন, ‘প্রায় দু’মাস হতে চলল, শহরজুড়ে নির্মাণ বন্ধ। অর্থনীতি ধাক্কা খাচ্ছে। এটা সরকারকে বুঝতে হবে। এভাবে ঝুলিয়ে রাখা উচিত হচ্ছে না।’
উল্লেখ্য, তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়েরপর এই অডিট কমিটি তৈরি হয়। কলকাতাসহ ১৩টি পুরসভায় সমস্ত ধরনের নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনের কাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। সেই সঙ্গে ছ’তলা বা তার বেশি উচ্চতার নির্মীয়মাণ আবাসিক ভবনগুলিকেও অডিটের আওতায় আনা হয়েছে।