ঢাকা: সংখ্যালঘুদের হয়ে কথা বলার অপরাধ! বাংলাদেশে নামী অর্থনীতিবিদ আবুল বরকতকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তন অধ্যাপক ও জনতা ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ। তারপরই বরকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিতর্ক ছড়িয়েছে। কোনও পরোয়ানা ছাড়াই বরকতকে পুলিস তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
বরাবরই বাংলাদেশে চরমপন্থা ও সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের উপর অত্যাচার নিয়ে সরব ছিলেন বরকত। শরিয়াভিত্তিক অর্থব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কীভাবে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে টাকার জোগান দিচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন তিনি। এই নিয়ে বই লেখার জন্য ২০০৪ সাল থেকে একাধিকবার তাঁকে খুনের হুমকি দিয়েছে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী। সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়েও বরকত মন্তব্য করেছিলেন, আগামী ৩০ বছরে বাংলাদেশে কোনও হিন্দুই অবশিষ্ট থাকবে না। জামাতের বিরুদ্ধেও একাধিকবার মুখ খুলেছেন তিনি। ফলে হঠাত্ করে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী স্বর দমন করতেই কি অর্থনীতিবিদকে গ্রেপ্তারের পথে হাঁটল ইউনুস সরকার? বরকতের গ্রেপ্তারি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আওয়ামি লিগও। যেভাবে একজনকে পরোয়ানা ছাড়া তুলে আনা হয়েছে, তাতে নাগরিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। জঙ্গিদের মন রাখতেই ইউনুস সরকার এই পদক্ষেপ করেছে বলেও অভিযোগ শেখ হাসিনার দলের। এননটেক্স গ্রুপ নামে একটি সংস্থার নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের নামে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর আতিউর রহমান ও বারকাত যোগসাজশ করে ওই গ্রুপের ২২টি প্রতিষ্ঠানকে এই টাকা ঋণ দিয়েছিলেন।