Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

পিওকেতে বিদ্রোহ স্বাধীনতা ঘোষণা বালোচদের শরিফ-সেনা সংঘাত, পতনের পথে পাক সরকার?

স্বাধীন বালুচিস্তান থেকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বিদ্রোহ। একাধিক ইস্যুতে কোণঠাসা শাহবাজ শরিফ প্রশাসন

পিওকেতে বিদ্রোহ  স্বাধীনতা ঘোষণা বালোচদের  শরিফ-সেনা সংঘাত, পতনের পথে পাক সরকার?
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইসলামাবাদ: স্বাধীন বালুচিস্তান থেকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বিদ্রোহ। একাধিক ইস্যুতে কোণঠাসা শাহবাজ শরিফ প্রশাসন। গত জুন মাস থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)। সরকারি দমনপীড়ন, হিংসা এবং রিগিংয়ের অভিযোগের মধ্যেই সেখানে ভোটে জিতে গিয়েছে শাসকদল পিএমএল-এন। তা সত্ত্বেও দুশ্চিন্তা কমছে না পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে বালুচিস্তানেও। বালোচরা ইতিমধ্যে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে দাবি করেছে। আগামী ১১ আগস্ট দেশজুড়ে স্বাধীনতা পালনের ডাক দিয়েছেন বিদ্রোহী বালোচ নেতা মির ইয়ার বালোচ। আর ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে পাক প্রশাসনে।

Advertisement

গত বৃহস্পতিবারই এক অনুষ্ঠানে সেদেশের অভ্যম্তরীণমন্ত্রী মহসিন নাকভি স্বয়ং দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই নিয়ে বিতর্ক চলাকালীনই আবার বোমা ফাটিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির বিশেষ ঘনিষ্ঠ এই মন্ত্রী। নাকভির দাবি, ‘পাকিস্তানের ইতিহাসে সবথেকে বড়ো দুর্নীতির পর্দাফাঁস করেছি। এতে বিচারক, আমলা, রাজনৈতিক নেতা, ব্যাংকের আধিকারিকরা জড়িত। ২১ বছর ধরে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’ পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনিক রদবদল, নতুন প্রদেশ তৈরির পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। নাকভির বক্তব্যকে সমর্থন করেছে পাক সেনা। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এই রদবদল অত্যন্ত জরুরি। ক্ষমতাসীন জোট সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের ভোট ব্যাংক। সেক্ষেত্রে প্রদেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ক্ষমতা হাতছাড়া হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি পাক সেনার সঙ্গে শাহবাজ শরিফ সরকারের সংঘাত চরমে? নাহলে মুনির ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী এভাবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দাগার সাহস পান কীভাবে? এবার কি তাহলে পাকিস্তান সরকারের পতন আসন্ন? ভারতের পড়শি দেশে আবারও মাথা তুলবে সামরিক সরকার? প্রশ্ন তুলছে আন্তর্জাতিক মহল।
বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নাকভি। সেনাপ্রধান মুনিরের নিকটাত্মীয় হিসাবে পরিচিত এই মন্ত্রী বর্তমানে পাক ক্রিকেট বোর্ডের প্রধানও। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে মধ্যস্থতার জন্য নাকভিকেই বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন মুনির। তাই পাক সেনাপ্রধানকে খুশি করে ইচ্ছাপূরণে মরিয়া এই পাক মন্ত্রীও। ভূরাজনীতি ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথনের আবার দাবি, প্রেসিডেন্ট হওয়ার খোয়াব দেখছেন মুনির। ঠিক পারভেজ মুশারফের মতো। তাঁর ‘ক্রীড়ানক’ নাকভিও তাই সেনার হয়ে পিএমএল-এন, পিপিপি জোট সরকারকে বারবার আক্রমণ করছেন। স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছেন, সেনা প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তন চাইছে। ক্ষমতা দখলের জন্য এভাবেই ধীরে ধীরে জমি তৈরি করছেন মুনির। 
দেশের অভ্যন্তরে টালমাটাল পরিস্থিতি সাহস জুগিয়েছে বিদ্রোহী বালোচদের। বালুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা শাহবাজ শরিফদের মাথাব্যথা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর। স্থানীয় সংগঠন জম্মু-কাশ্মীর আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় সেখানকার বিভিন্ন প্রদেশে ক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো ছড়াতে থাকে। বিধান পরিষদের ভোটও বয়কট করেছেন বহু বাসিন্দা। পরিস্থিতি সামলাতে বিক্ষোভের ‘ভুয়ো’ খবর করার অভিযোগ তুলে সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ। তাতে অবশ্য সরকার পতনের জল্পনা থামানো যাচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ