নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাড়ি হোক কিংবা ফ্ল্যাট। ভাড়া নিতে হলেই প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে নিতে হবে ‘পুলিস ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ (পিসিসি)। শহরের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য গত মে মাসে এমনই নির্দেশিকা ঘোষণা করেছিল বিধাননগর কমিশনারেট। নির্দেশিকা জারি হওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় চার হাজার আবেদনও জমা পড়েছিল। সেই প্রক্রিয়া এখনও জারি রয়েছে। কিন্তু, আদৌ ভাড়াটিয়ারা তা মানছেন কি না, এবার সেদিকেই আঙুল উঠতে শুরু করেছে। কারণ, ইকোপার্ক থানার অন্তর্গত নিউটাউনের হাতিয়াড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে লস্কর-ই-তোইবার দুই জঙ্গি। তারা বাড়ি ভাড়া নিয়ে ঘাঁটি গড়েছিল।
ওই বাড়ির মহিলা মালিক সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ভাড়াটিয়া আধারকার্ড, ভোটার কার্ড নিয়েছিলেন। কিন্তু, পিসিসি’র জন্য আবেদন করতে হয় বলে জানা নেই! অনেকের প্রশ্ন, জঙ্গিরা এলাকায় ভাড়া নিয়ে থাকছে। অথচ স্থানীয় থানার কাছে খবরই নেই? কেন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি হবে না? বাইরে থেকে কার আসছে, কারা যাচ্ছে এই দায়িত্ব কার?এই ঘটনায় উদ্বেগে রয়েছেন নিউটাউনের আবাসিকরাও।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নিউটাউনের হাতিয়াড়া থেকে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হাতে গ্রেপ্তার হয় উমর ফারুক এবং রবিউল ইসলাম নামে দুই লস্কর জঙ্গি। উমরের বাড়ি মালদেহ এবং রবিউলের বাড়ি বাংলাদেশে। জানা গিয়েছে, হাতিয়াড়া মাঝেরপাড়ায় একটি এক কামরার বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল উমর। রবিউলকে সে নিজের বন্ধু বলে পরিচয় দিয়েছিল। বাড়িটি একেবারে এক কোনে অবস্থিত। পাশেই ঝোপ-জঙ্গল। কিছুটা দূরে একটি বড় আবাসন কমপ্লেক্স রয়েছে। জঙ্গি গ্রেপ্তারের পরই এলাকায় হইচই ছড়িয়েছে। যদিও স্থানীয়দের দাবি, আসল অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। দু’জন জঙ্গির জন্য যেন এলাকার বদনাম না হয়। বাড়ির মহিলা মালিক সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে আরও জানিয়েছেন, বছর খানেক আগে তাঁরা ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রায়ই তালা দেওয়া থাকত। তারা যে দেশবিরোধী কাজে যুক্ত, তা কেউ গুণাক্ষরে টের পায়নি।
তবে, সঠিক কতদিন আগে তারা ভাড়া নিয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। বাড়ি মালিক বছরখানেক বললেও, তাঁরই ছেলে সোমবার বিকেলে বিধাননগর পুরসভার স্থানীয় ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সিরাজুল হকের কাছে গিয়েছিলেন। সিরাজুল হক বলেন, আমাকে ওরা জানিয়েছে, দু’মাস ধরে ভাড়ায় ছিল। একটি চুক্তিপত্রও হয়েছিল। কিন্তু, ওরা ভাড়াটিয়াদের নথিপত্র থানায় জমা দেয়নি। পিসিসির আবেদনও করেনি। আমরা পুলিশের সঙ্গে বার বার প্রচার করেছি—বাইরের কোনও ভাড়াটিয়া এলেই তাঁর নথিপত্র যেন থানায় জমা করা হয় এবং পিসিসির আবেদন করা হয়। ওই প্রচার আরও বাড়াব।
কলকাতার পাশেই প্রতিদিন নিজের শাখা প্রশাখায় বেড়ে উঠছে নিউটাউন ও রাজারহাট এলাকা। বহুতলের সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ভাড়াটিয়ার সংখ্যা কয়েক হাজার। গজিয়ে উঠছে গেস্ট হাউসও। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বিধাননগরের বহু এলাকা রয়েছে, যেখানে মালিকের সঙ্গে ভাড়াটিয়ার কোনও পরিচিতি নেই। অনেক ভাড়াটিয়া নিজে না থেকে আবার সাব-টেনেন্ট বসিয়ে দেন। ফলে, কে প্রকৃত ভাড়াটিয়া সেই তথ্য আড়ালেই থেকে যায়! যা শহরের নিরাপত্তার জন্যও বিপজ্জনক। পুলিশের দাবি, ধৃত লস্কর জঙ্গিরা পিসিসির আবেদন করেছিল কি না, কতদিন ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যান্য বিষয় নিয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।