Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইকো পার্ক বন্ধ, গেট-পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢুকলেন উৎসাহীরা

টিকিট কাউন্টারের সামনে উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু কাউন্টারে তো লোকই নেই! টিকিটের জন্য কেউ সেই বন্ধ কাউন্টারের কাচে টোকা মেরে চলেছেন।

ইকো পার্ক বন্ধ, গেট-পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢুকলেন উৎসাহীরা
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: টিকিট কাউন্টারের সামনে উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু কাউন্টারে তো লোকই নেই! টিকিটের জন্য কেউ সেই বন্ধ কাউন্টারের কাচে টোকা মেরে চলেছেন। কেউ চিৎকার করে জানতে চাইছেন, ‘কাউন্টারে লোক কই?’ ২ নম্বর গেট তালাবন্ধ। তাও চলছে ঠেলাঠেলি। নিরাপত্তারক্ষীরা এগিয়ে এসে বলার চেষ্টা করছিলেন, ‘প্রতি সোমবার ইকোপার্ক বন্ধ থাকে। তাই আজ বন্ধ।’ কিন্তু কে শোনে কার কথা। ততক্ষণে ইকোপার্কের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় আরও ঘন হয়েছে। এত দূর থেকে এসে কি ফিরে যেতে হবে! সম্ভবত এমন চিন্তা থেকেই বেশ কয়েকজন উৎসাহী কর্মী-সমর্থক গ্রিল টপকে পার্কের  ভিতরে ঢুকে পড়লেন। পাঁচিলও  টপকালেন কেউ কেউ। তুমুল ধস্তাধস্তির মধ্যে খুলে গেল ২ নং গেটের একাংশ। অপেক্ষারত অনেকে সেখান দিয়েই  ঢুকে পড়লেন। সব মিলিয়ে ‘বন্ধ’ ইকোপার্কে দিনভর দিব্যি ঘুরে বেড়ালেন ধর্মতলার সভায় আসা শতাধিক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। কেউ কেউ গাছের ছায়ায় দিলেন ‘বিরিয়ানি ঘুম’!

Advertisement

ফি-বছর ২৫ ডিসেম্বর বা ১ জানুয়ারি ভিড় উপচে পড়ে নিউটাউনের ইকোপার্কে। ২১ জুলাইও হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী এখানে আসেন। অনেকে স্রেফ ঘুরে বেড়ানোর জন্যই আসেন। সঠিক সময়ে সভাস্থলে পৌঁছতে না পেরে ইকোপার্কে চলে আসেন। এবারও তার কোনও ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু গোল বেধেছে সোমবার হওয়ায়। প্রতি সপ্তাহে সোমবার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয় ইকোপার্ক। যদিও ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর সোমবার পড়লেও বড়দিনের উৎসবমুখর জনস্রোতের কথা মাথায় রেখে ইকোপার্ক খোলা রাখা হয়েছিল। 
এদিন দুপুরে দেখা গেল, বাইরে রীতিমতো পিকনিকের মেজাজ। পংক্তিভোজ চলছে। কোথাও ডিম-খিচুড়ি, কোথাও কষা মাংস-সরু চালের ভাত, কোথাও মটন বিরিয়ানি। আয়েশ করে মধ্যাহ্নভোজ সেরে অনেকেই ইকোপার্কের গ্রিল বা পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢুকেছেন। ২ নম্বর গেটের খোলা অংশ দিয়েও ঢুকেছেন বহু মানুষ। ভিতরে দেখা গেল, কয়েকশো কর্মী ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পার্কের বিভিন্ন দ্রষ্টব্যের সামনে চলছে সেল্ফি তোলার ধুম। গাছ তলায় ঘুমোচ্ছেন অনেকে। পার্কের এক কর্মচারী বলছিলেন, ‘এত লোককে আটকাব কী করে! যে যেদিক দিয়ে পেরেছে, ঢুকে পড়েছে।’ পার্কের ভিতর ঘুরে বেড়ানো এক তৃণমূল কর্মীর অবশ্য সাফ কথা, ‘বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে কর্মী-সমর্থকরা এসেছেন। কী করে থামানো যাবে বলুন? খোলা থাকলে তো টিকিট কেটেই ঢুকত!’ এদিন সল্টলেকের অফিসপাড়া ছিল ফাঁকা। হাজিরাও কম। বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে সকালে উত্তরবঙ্গের কর্মী-সমর্থকরা শাটল বাসে রওনা দেন শিয়ালদহ। দুপুর গড়াতেই ভিড় পাতলা হয় ইকোপার্কেও। বিশ্ববাংলা সরণির পাশে সবুজ ঘাসে তখনও পড়ে রয়েছে হলুদ বিরিয়ানি-মাংসের হাড়। রাজপথে গড়াগড়ি খাচ্ছে রাজভোগ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ