Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবিটির মিনারুলের সঙ্গে যোগসূত্রের প্রমাণ, গ্রেপ্তার থানারপাড়ার বিপ্লব

এবিটির মিনারুলের সঙ্গে যোগসূত্রের প্রমাণ, গ্রেপ্তার থানারপাড়ার বিপ্লব
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন আনসারউল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) জাল ছড়িয়েছে নদীয়াতে। এবিটি সংস্রবের অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার হল নদীয়ার থানারপাড়ার এক যুবক। ধৃতের নাম, মহম্মদ বিপ্লব বিশ্বাস ওরফে আবদুল্লা। মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মিনারুল শেখ ও আব্বাস আলিরা জেহাদি প্রশিক্ষণের জন্য যে নিষিদ্ধ সংগঠনের বই ব্যবহার করত, সেই বই তাদের বিপ্লবই সরবরাহ করেছে বলে তারা জেরায় জানিয়েছিল। এমনকী আব্বাসের সঙ্গে বিপ্লবের নিয়মিত ’চ্যাটে’র প্রমাণও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার কলকাতার এসটিএফ অফিসে বিপ্লবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেই জানিয়েছেন এসটিএফ আধিকারিকেরা। ধৃতকে বৃহস্পতিবার বহরমপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। কড়া পুলিসি নিরাপত্তায় বিপ্লবকে এদিন সন্ধ্যায় কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 
Advertisement
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে মুর্শিদাবাদের পাঁচ এবিটি জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। হরিহরপাড়ার  মিনারুল ও তার বন্ধু আব্বাসকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে অসম এসটিএফ একাধিক তথ্য পায়। তারপর বেঙ্গল এসটিএফ গত ৭ ফেব্রুয়ারি বহরমপুর আদালতে আবেদন করে জেলার তিন জঙ্গিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এদিন মিনারুল ও আব্বাস ছাড়াও শাদ রবি ও অসমের নুর ইসলামকে আদালতে তোলা হয়। সেই সঙ্গে জেএমবির সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি তারিকুল ইসলামকেও আদালতে পেশ করে এসটিএফ। 
লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করে মিনারুল ও আব্বাসের কাছ থেকে তদন্তকারীরা জানতে পারেন বিপ্লবের নাম। জিহাদি প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য যে বই দেখে জঙ্গিদের মগজ ধোলাই করা হতো, তার উৎস সন্ধানেই উঠে এসেছে নদীয়ার বিপ্লবের নাম। মাসখানিক আগেও তাকে কলকাতার এসটিএফ দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়ার থানারপাড়া থানার খুব কাছেই বিপ্লবের বাড়ি। সে মাঠে চাষাবাদ করে। বিঘে পাঁচেক জমি রয়েছে তার। মাঠের কাজের সুবিধার্থে সে বছর চারেক আগে জমিতে পাম্প বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পাম্প কেনার সূত্র ধরে পরিচয় হয় হরিহরপাড়ার মিনারুল শেখের সঙ্গে। বিপ্লবের এক সম্বন্ধী হরিহরপাড়ায় থাকেন। তিনি নিজেই মিনারুলের সঙ্গে বিপ্লবের পরিচয় করিয়ে দেয়। এর বাইরে বিপ্লবের সঙ্গে মিনারুলের কোনও যোগ ছিল না বলেই দাবি করেছেন ওই আত্মীয়। 
বহরমপুর আদালতে দাঁড়িয়ে বিপ্লবের ওই আত্মীয় বলেন, খুবই সাদাসিধে ছেলে বিপ্লব। চাষাবাদ করে খায়। ওর একটা ভাই আছে সেও চাষ বাস করে। জমিতে পাম্প লাগানোর সুবাদে মিনারুলের সাথে বিপ্লবের পরিচয় হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে ওকে এবং আমাকে কলকাতার এসটিএফ দপ্তরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এক মাস আগে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু বুধবার ফের বিপ্লবকে ডেকে গ্রেপ্তার করল।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ