Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবারও হচ্ছে পৌষমেলা, আয়োজনে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট 

এবারও হচ্ছে পৌষমেলা, আয়োজনে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট 
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ইন্দ্রজিৎ রায়, বোলপুর : বিশ্বভারতীর রীতি ও ঐতিহ্য মেনে গতবারের মতো এবছরও অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শান্তিনিকেতন পৌষমেলা।‌ গত বছর মেলা হয়েছিল মূলত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে। এবার সরাসরি মেলার আয়োজন করবে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট। সহযোগিতার জন্য আর্জি জানানো হবে জেলা প্রশাসনকে। বুধবার বিশ্বভারতী কর্মী পরিষদ আয়োজিত বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক আতিগ ঘোষ জানিয়েছেন। এই বিশাল আয়োজনের জন্য জেলা ও রাজ্য প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এই খবর জানাজানি হতেই বোলপুর-শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী তথা হস্তশিল্পী মহলে খুশির হাওয়া।
Advertisement
বিশ্বভারতীর যে সব ঐতিহ্যবাহী উৎসব ও অনুষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে পৌষ উৎসব ও মেলা অন্যতম। শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্য আশ্রম হওয়ার আগে থেকেই এই পৌষমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৯৪ সালে প্রথম পৌষমেলার আয়োজন করেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। মেলাটি অনুষ্ঠিত হয় শান্তিনিকেতনের উপাসনা গৃহ সংলগ্ন মাঠে। যা পুরনো মেলার মাঠ (বর্তমানে জগদীশ কানন) বলে পরিচিত। সেই পরম্পরা বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত সচেতনভাবে উদযাপন করে এসেছে। যদিও ১৯৪৩ সালে মন্বন্তর ও ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক হানাহানির কারণে মেলা উদযাপন স্থগিত ছিল। তারপর বিতর্কিত উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে সেই ঐতিহ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তার আমলে ২০১৯ সালে বিশ্বভারতী শেষ মেলায় আয়োজন করে। কিন্তু করোনা আবহ ও তাঁর অনিচ্ছায় তিন বছর মেলা হয়নি। তবে, জেলা প্রশাসন কখনই সেই ঐতিহ্যকে ছেদ পড়তে দেয়নি। বিকল্পভাবে হলেও জেলা পরিষদ ও ডাকবাংলো ময়দানে পৌষমেলা আয়োজন করে। গত বছর বিদ্যুতের বিদায়ে, জেলা শাসক‌ বিধান রায় ও প্রশাসনের তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে পূর্বপল্লির মাঠে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবছর মেলা করতে আগ্রহী ছিল বিশ্বভারতী কর্মী পরিষদ। তার প্রেক্ষিতেই এদিন শান্তিনিকেতনের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির কনফারেন্স হলে মেলা সংক্রান্ত বৈঠকটি হয়। ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয় কুমার সরেন ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী আধিকারিকরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, আমরা পৌষমেলা করতে চাই। বৈঠকে সেই ইতিবাচক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে এই মেলা আয়োজন করা হবে। জেলা ও রাজ্য প্রশাসন আমাদের সাহায্য করবে বলে আশা রাখি।
সম্পর্কিত সংবাদ