Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবারও বোরো চাষের জল পাবেন পূর্ব বর্ধমানের চাষিরা

এবারও বোরো চাষের জল পাবেন পূর্ব বর্ধমানের চাষিরা
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এবারও বোরো চাষের জন্য জল পাবেন পূর্ব বর্ধমানের চাষিরা। সবকিছু ঠিক থাকলে রবি চাষের জন্য ৫জানুয়ারি থেকে জল ছাড়া হতে পারে। ধানচাষিরা জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে জল পাবেন। সেই দিনক্ষণ কয়েকদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়শা রানি এ বলেন, চাষিরা সেচের জন্য জল পাবেন বলে এদিন ঠিক হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, জামালপুর, গলসি-১, ২ এবং আউশগ্রামের দু’টি ব্লকের চাষিরা জল পাবেন। এছাড়া মেমারি-১ এবং বর্ধমানের দু’টি ব্লকেও সেচের জন্য জল দেওয়া হবে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য বছর এইসময় জল ছাড়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়ে যেত। কিন্তু এবছর মিটিং দেরিতে হওয়ায় চাষিরা চিন্তায় ছিলেন। এদিনের পর তাঁদের দুশ্চিন্তা দূর হয়ে হয়েছে। বীজতলা তৈরির কাজ আরও জোরকদমে শুরু হবে। 
Advertisement
ডিভিসির জলে জেলায় ৩৭হাজার ৯২০ একর জমিতে চাষ করা যাবে। পশ্চিম বর্ধমানে ১৬৫০ একর এবং বাঁকুড়ায় ৩৭হাজার একর জমিতে জল যাবে। পশ্চিম বর্ধমানের ফরিদপুর-দুর্গাপুর এবং কাঁকসা, বাঁকুড়ার বড়জোড়া, সোনামুখী ব্লকে ধানচাষ করা হবে। পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি এবং হাওড়ার ১৭টি ব্লকের ৬৬হাজর ৬৫০ একর জমিতে সেচের জল যাবে। পূর্ব বর্ধমানে রবিচাষের জন্য ৩৩হাজার ৯২০ একর জমিতে জল পৌঁছে যাবে। কৃষিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ডিভিসির জলের উপরই বেরোচাষ অনেকটাই নির্ভর করে। বিভিন্ন এলাকায় সাবমার্সিবল রয়েছে। তা দিয়ে জল তুলে চাষ করতে হলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। ডিভিসি জল দিলে সেচের খরচ লাগে না। চাষের খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। সারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। পেট্রপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক্টর ভাড়াও বেড়ে গিয়েছে। তারপর সাবমার্সিবলের উপর পুরোটা নির্ভর করলে লাভ থাকবে না বলে কৃষকদের দাবি। 
গলসির চাষি কেশব দাস বলেন, জল ছাড়ার খবর জানার জন্য মুখিয়েছিলাম। অন্যান্য বছর আগেই জল দেওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যায়। চাষ শুরু করতে তেমন সমস্যা হতো না। এবার দুশ্চিন্তা নিয়ে চাষিরা বীজতলা তৈরি করতে শুরু করেছিলেন। সেই চিন্তা আর নেই। যাঁরা এখনও বীজতলা তৈরি করেননি তাঁরাও তা শুরু করে দেবেন। জেলার মধ্যে গলসির দু’টি ব্লকে সবচেয়ে বেশি ধানচাষ হয়। জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে আমরা জেলায় বৈঠক করব। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা চাষিদের জানিয়ে দেওয়া হবে। আশা করা যায় সামনের সপ্তাহের মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যাবে। চাষির বোরো এবং রবিচাষের প্রস্তুতি নিতে পারেন।
সম্পর্কিত সংবাদ