Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবার পশ্চিম বর্ধমানে ১৭টি স্কুলের ট্যাবের টাকায় গরমিল

এবার পশ্চিম বর্ধমানে ১৭টি স্কুলের ট্যাবের টাকায় গরমিল
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ট্যাব কেলেঙ্কারির তদন্ত নিয়ে শিক্ষাদপ্তরে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হতেই উঠে এল একের পর এক গরমিল। শুধু সাইবার প্রতারণাই নয়, বহু ক্ষেত্রে গাফিলতিও প্রকাশ্যে আসছে। জেলার ১৭টি স্কুলে ট্যাবের টাকা ঢোকা নিয়ে গরমিল ধরা পড়েছে। সেখানে পাঁচটি স্কুলে দেখা গিয়েছে, পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টের একটি সংখ্যা ভুলের জন্য সেই ব্রাঞ্চের অন্য অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে। একজন পড়ুয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্ক ফেলিওরের জন্য টাকা ঢোকেনি। জেলা শিক্ষাদপ্তর তাই ১৭টি স্কুলের ঘটনা লিখিতভাবে থানায় জানিয়েছে। দেখা গিয়েছে, ১৭টি স্কুলের মোট ৬৫ জন পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টের টাকা অন্যত্র গিয়েছিল। তারই তদন্তে উত্তর দিনাজপুর সহ একাধিক জায়গায় গিয়েছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের পুলিস। 
Advertisement
অন্যদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, একদিকে পুলিস যেমন তদন্ত করছে, তেমনি যারা ট্যাবের টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, প্রশাসন তাদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টেই ফের টাকা পাঠিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৬৫ জন পড়ুয়ার মধ্যে ৬২ জন পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে নতুন করে টাকা পাঠানো সম্ভব হয়েছে। যে তিনজন টাকা পায়নি, স্কুল তাদের ব্যাঙ্কের নথি সংগ্রহ করতে পারেনি। 
অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, ১৭টি স্কুলে ট্যাবের টাকা ঢোকা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা বেশিরভাগ পড়ুয়াকে ট্যাবের টাকা তুলে দিতে পেরেছি। মুখ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারির দিনই জেলা শিক্ষাদপ্তর প্রতিটি স্কুলের হেড মাস্টার ও টিআইসিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, প্রতিটি পড়ুয়ার কাছে খবর নিতে হবে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্যাবের টাকা ঢুকেছে কি না। সেই তদন্ত করতে গিয়েই একের পর এক স্কুলে ট্যাবের টাকা নিয়ে গরমিল ধরা পড়েছে। গোপালপুর হাইস্কুলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, লিঙ্ক বিকল থাকায় একজন পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা ঢোকেনি। প্রশাসনের ছাঁকনিতে তা ধরা পড়ে। হাজি কদম রসুল হাইস্কুল, রাহামানিয়া হাইস্কুল, লাউদোহা কেটিপি ইনস্টিটিউশন, বরাকর শ্রীমাড়ওয়ারি বিদ্যালয়ে আবার একজন করে পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা পড়ুয়ার ওই ব্রাঞ্চেরই অন্য একটি অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। অ্যাকাউন্ট নম্বরের একটি সংখ্যায় গরমিল থাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। 
এছাড়া ১২টি স্কুলে সরকারি সাইবার প্রতারকরা হানা দিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, স্কুলে সংখ্যা বেশি হলেও প্রতি স্কুলে খুব কম জন পড়ুয়াকেই টার্গেট করেছিল সাইবার প্রতারকরা। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পেয়েছে, প্রতারকদের এক একটি গ্যাং এক একটি জেলাকে টার্গেট করেছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থেকে একাধিক জেলার পুলিস বহু প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু পশ্চিম বর্ধমানে অপারেশন চালিয়েছিল চোপড়ারই অন্য একটি গ্যাং। অন্য গ্যাংয়ের সদস্যরা ধরা পড়তেই বাকিরা গা ঢাকা দিয়েছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ