নিজস্ব প্রতিনিধি, চণ্ডীপুর: তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল নিজে না গিয়ে ডামি শিক্ষিকা দিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন। সেই তৃণমূল নেতা স্বপনকুমার প্রধানের বিরুদ্ধে এবার ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল। অভিযুক্ত স্বপন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সদস্য। বাড়ি চণ্ডীপুর ব্লকের ভগবানখালি গ্রামে। পেশায় চিংড়ির মাছের খাবারের ব্যবসায়ী। স্বপন কাঁথির ধনদিঘি এলাকার ব্যবসায়ী স্নেহা বেরার সংস্থা থেকে চিংড়ির খাবার কিনে চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকার ভেড়ি ব্যবসায়ীদের তা খুচরো বিক্রি করেন। স্নেহা বেরাকে পেমেন্ট করার জন্য স্বপনকুমার পাঁচটি চেক ইস্যু করেছিলেন। তার সব ক’টাই বাউন্স হয়। মোট টাকার পরিমাণ ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। লোকসানের মুখে পড়ে স্নেহা বেরার ব্যবসা বন্ধ হয়। ব্যবসার টাকা উদ্ধারের জন্য তিনি হলদিয়ার দুর্গাচক থানায় স্বপনকুমার প্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন। এর পাশাপাশি চেক বাউন্সের ঘটনায় ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টে মামলা রুজু হয়েছে।
Advertisement
৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকার চেক বাউন্সের অভিযোগ স্বীকার করে স্বপন বলেন, যশ সাইক্লোনে এই জেলার সব ভেড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে আমি চাষিদের থেকে টাকা পাইনি। ওই সংস্থার থেকে পাইকারি দরে মাছের খাবার কিনতাম। পাঁচটি চেক দেওয়া হয়েছিল। সেগুলি বাউন্স হয়। এর সঙ্গে আমার সম্পত্তি বৃদ্ধির কোনও সম্পর্ক নেই।
চণ্ডীপুর থানার মগরাজপুরে স্বপনকুমার প্রধানের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের পাঁচতলা বাণিজ্যিক বাড়ি আছে। সেখানে মাছের খাবার মজুত থাকে। এছাড়া, ভগবানখালি গ্রামে ১০ ফুট উঁচু বাউন্ডারি ওয়াল ঘেরা রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি। ভিতরে ছবির মতো সাজানো পুকুর। জলের তলায় বসানো রয়েছে লাইট। তাঁর বিলাসী জীবন গোটা এলাকায় চর্চার বিষয়। ওই নেতার চিংড়ির খাবার এবং ভেড়ি ব্যবসায় ১৮০ জন কর্মী কাজ করেন। এরকম এক নেতা প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভাইয়ের স্ত্রীকে দিয়ে প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস করাতেন। তিনি নিজে স্কুলে না গিয়ে ডামি শিক্ষিকাকে দিয়ে ক্লাস করাতেন। ‘বর্তমান’ সংবাদপত্রে এখবর প্রকাশিত হতেই গোটা জেলায় হইচই পড়ে গিয়েছিল।
অভিযোগকারী স্নেহা বেরার বাবা সন্দীপ বেরা বলেন, ২০২১ সাল থেকে আমাকে ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকার জন্য পাঁচটি চেক দিয়েছিলেন স্বপনবাবু। সবক’টি বাউন্স হয়। দুর্গাচকে এসবিআই শাখায় আমার অ্যাকাউন্ট। সেজন্য ওই থানায় এফআইআর করি। আমার মতো চেন্নাইয়ে আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা থেকে চিংড়ির খাবার নিয়ে অভিযুক্ত প্রতারণা করেছেন। সবমিলিয়ে প্রতারণার অঙ্ক প্রায় ১২ কোটি টাকা। অথচ এই সময়ে অভিযুক্ত স্বপনকুমার প্রধান ৬৫০ ডেসিমল জমি কিনেছেন। ১০০ বিঘা করে দু’টি চিংড়ির ভেড়ি কিনেছেন। এছাড়া, আট কোটি টাকা খরচে মগরাজপুর মৌজায় পাঁচতলা বাণিজ্যিক বিল্ডিং এবং ভগবানখালিতে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়েছেন। আমাদের থেকে লুট করা টাকায় এসব সম্পত্তি বানিয়েছেন। সব তথ্য আমার কাছে রয়েছে। স্বপন প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্গাচক থানায় এফআইআর করেছি। এর পাশাপাশি চেক বাউন্সের ঘটনায় এনআইএ অ্যাক্টে মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযুক্ত স্বপনবাবু বলেন, সন্দীপবাবু আমার কাছ থেকে টাকা পাবেন। আমি সেই অভিযোগ অস্বীকার করছি না। আমি কিস্তিতে ধাপে ধাপে টাকা মেটাতে চাইছি। এজন্য কয়েকবার সালিশি মিটিংও হয়েছে। থানাতেও একবার মিটিং হয়েছে। কিন্তু, উনি এককালীন টাকা চাইছেন।
চণ্ডীপুর থানার মগরাজপুরে স্বপনকুমার প্রধানের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের পাঁচতলা বাণিজ্যিক বাড়ি আছে। সেখানে মাছের খাবার মজুত থাকে। এছাড়া, ভগবানখালি গ্রামে ১০ ফুট উঁচু বাউন্ডারি ওয়াল ঘেরা রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি। ভিতরে ছবির মতো সাজানো পুকুর। জলের তলায় বসানো রয়েছে লাইট। তাঁর বিলাসী জীবন গোটা এলাকায় চর্চার বিষয়। ওই নেতার চিংড়ির খাবার এবং ভেড়ি ব্যবসায় ১৮০ জন কর্মী কাজ করেন। এরকম এক নেতা প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভাইয়ের স্ত্রীকে দিয়ে প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস করাতেন। তিনি নিজে স্কুলে না গিয়ে ডামি শিক্ষিকাকে দিয়ে ক্লাস করাতেন। ‘বর্তমান’ সংবাদপত্রে এখবর প্রকাশিত হতেই গোটা জেলায় হইচই পড়ে গিয়েছিল।
অভিযোগকারী স্নেহা বেরার বাবা সন্দীপ বেরা বলেন, ২০২১ সাল থেকে আমাকে ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকার জন্য পাঁচটি চেক দিয়েছিলেন স্বপনবাবু। সবক’টি বাউন্স হয়। দুর্গাচকে এসবিআই শাখায় আমার অ্যাকাউন্ট। সেজন্য ওই থানায় এফআইআর করি। আমার মতো চেন্নাইয়ে আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা থেকে চিংড়ির খাবার নিয়ে অভিযুক্ত প্রতারণা করেছেন। সবমিলিয়ে প্রতারণার অঙ্ক প্রায় ১২ কোটি টাকা। অথচ এই সময়ে অভিযুক্ত স্বপনকুমার প্রধান ৬৫০ ডেসিমল জমি কিনেছেন। ১০০ বিঘা করে দু’টি চিংড়ির ভেড়ি কিনেছেন। এছাড়া, আট কোটি টাকা খরচে মগরাজপুর মৌজায় পাঁচতলা বাণিজ্যিক বিল্ডিং এবং ভগবানখালিতে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়েছেন। আমাদের থেকে লুট করা টাকায় এসব সম্পত্তি বানিয়েছেন। সব তথ্য আমার কাছে রয়েছে। স্বপন প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্গাচক থানায় এফআইআর করেছি। এর পাশাপাশি চেক বাউন্সের ঘটনায় এনআইএ অ্যাক্টে মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযুক্ত স্বপনবাবু বলেন, সন্দীপবাবু আমার কাছ থেকে টাকা পাবেন। আমি সেই অভিযোগ অস্বীকার করছি না। আমি কিস্তিতে ধাপে ধাপে টাকা মেটাতে চাইছি। এজন্য কয়েকবার সালিশি মিটিংও হয়েছে। থানাতেও একবার মিটিং হয়েছে। কিন্তু, উনি এককালীন টাকা চাইছেন।



