Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

এবার প্রোমোটিং ব্যবসায় ডাকঘর

এবার প্রোমোটিং ব্যবসায় ডাকঘর
  • ২ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: সল্টলেকের পিএনটি কোয়ার্টার্স হোক বা বর্ধমান শহরে জি টি রোডের পাশের বিশাল জমি। ‘প্রাইম লোকেশন’ বলতে যা বোঝায়, এই জায়গাগুলি বাস্তবিক অর্থে তা-ই। এরকম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডাক বিভাগের মালিকানাধীন বিশাল বিশাল জমি পড়ে রয়েছে। কোথাও আবার রয়েছে পোস্টাল কলোনি। সেখানে কিছু অংশে ডাকঘরের নিজস্ব ভবন থাকলেও অনেক জমি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সম্ভাবনার দিকগুলি খতিয়ে দেখার পর ডাকঘরের এসব জমিতে মাথা তুলবে বহুতল। তারপর সেই ভবন ভাড়া দেওয়া হতে পারে শপিং মল, হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে যে কোনও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে। অর্থাৎ, এবার কার্যত প্রোমোটিং ব্যবসায় নামছে ডাকঘর! তবে শুধু এ রাজ্য নয়, দেশজুড়ে ডাকঘরের যে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে, সর্বত্র রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় নামার তোড়জোড় শুরু করেছে তারা। সল্টলেক, বাঁকুড়া বা বর্ধমানের সম্পত্তিগুলিও রয়েছে এই সম্ভাবনার তালিকায়। 
Advertisement
ডাক বিভাগ সূত্রে খবর, পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু করে দেওয়ার আগে প্রত্যেকটি সম্পত্তির ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ হবে। তার জন্য কনসালটেন্সি বা পরামর্শদাতা সংস্থা নিয়োগ করতে ইতিমধ্যে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, ওই সংস্থা আগামী ২ বছরের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। তবে দেশজুড়ে এই কাজ সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তারাই। ভারতে মোট পোস্ট অফিসের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৫ হাজার। এর মধ্যে ডিপার্টমেন্টাল পোস্ট অফিসের (সাব পোস্ট অফিস, হেড পোস্ট অফিস, মুখ্য ডাকঘর এবং জেনারেল পোস্ট অফিস) সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৪। এর বাইরে যেগুলি আছে, তা শাখা পোস্ট অফিস। ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ হাজার ৯৪টি ডিপার্টমেন্টাল পোস্ট অফিসের মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ৩৭৩টি ডাকঘরের নিজস্ব বাড়ি বা ভবন রয়েছে। বাকি সবই চলে ঘর ভাড়া নিয়ে। এছাড়া, পোস্ট অফিসের হাতে রয়েছে ১ হাজার ৪৭২টি প্লট বা ফাঁকা জমি। ডাকঘরের নিজস্ব ভবন তৈরির জন্যই এই জমিগুলি কখনও না কখনও কেনা হয়েছিল বা ‘গিফ্‌ট’ করেছিল কোনও সংস্থা। আছে ৮২০টি পোস্টাল কলোনি, যেখানে ১৯ হাজার ৮৪৫টি স্টাফ কোয়ার্টার রয়েছে। সম্পত্তিগুলি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, যে ভবন আছে, তার সংস্কার নাকি নতুন নির্মাণ, তাও ঠিক হবে পরামর্শদাতা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে। 
ডাক বিভাগের কর্তাদের আশা, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন উন্নত হবে পোস্ট অফিসের গ্রাহক পরিষেবা, সেই সঙ্গে মোটা অঙ্কের উপার্জন সম্ভব হবে। সম্পত্তিগুলি কী অবস্থায় আছে, বর্তমান বাজারমূল্য কত ইত্যাদি বিষয়ে সমীক্ষা চালাবে পরামর্শদাতা সংস্থা। সমীক্ষায় তারা স্থানীয় রিয়েল এস্টেট মার্কেট সম্পর্কে যেমন তথ্য সংগ্রহ করবে, তেমনই স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারের কোনও নির্দিষ্ট বিধি বা নিয়ম আছে কি না, নথিভুক্ত করা হবে তাও। 
প্রসঙ্গত, গত ১০ বছরে ডাক বিভাগের মোট ‘লোকসান’-এর অঙ্ক দেড় লক্ষ কোটিরও বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ঘাটতি ছিল ২৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক। পার্সেল পরিষেবা উন্নত করার পাশাপাশি ই-কমার্সেও পা রেখেছে তারা। এই পদক্ষেপও তারা সেই লক্ষ্যেই নিয়েছে বলে দাবি। এর ফলে ডাকঘরের বেহাল দশা কাটে কি না, সেটাই এখন দেখার!  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ