সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজ থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। স্বরূপগঞ্জ ও মায়াপুর থেকে আসা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা যাতে ভাগীরথী পার হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা নিল ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। ছাত্রছাত্রীদের পারাপারের জন্য অতিরিক্ত নৌকো ও লঞ্চের ব্যবস্থা রেখেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। শুধু নদী পার হতে নয়, সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে যাতে দেরি না হয়, সেদিকেও ঘাট কর্তৃপক্ষ নজর রাখবে। পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত নৌকোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে আলাদা নৌকোর ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ঘাটে নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবকও থাকছে। অন্যদিকে নবদ্বীপ পুরসভার পক্ষ থেকে শহরে যাতে যানজট না হয়, পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনও অসুবিধার মধ্যে না পড়েন, সে কারণে যান নিয়ন্ত্রণের উপর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার সময়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় পুরসভার স্বেচ্ছাসেবকরা বিশেষ নজরদারি চালাবেন বলে জানালেন নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা। তিনি বলেন, নবদ্বীপের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও আসেন। এই বিষয়টি মাথায় রেখে পুরসভা নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে। টোটো চালকদের সাবধান করে দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় এবং পরীক্ষা শেষে রাস্তায় যানজট করা যাবে না। কাউন্সিলরাও এদিকে নজর রাখবেন। নবদ্বীপ ফেরিঘাট জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক সুশান্ত হালদার বলেন, ভাগীরথী পার হয়ে স্বরূপগঞ্জ থেকে প্রায় ৪০০ এবং মায়াপুর থেকে ১০০ জন পরীক্ষার্থী নবদ্বীপের বিভিন্ন কেন্দ্রের পরীক্ষা দিতে আসে। সেই সব পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে মায়াপুর–নবদ্বীপ, স্বরূপগঞ্জ–নবদ্বীপের মধ্যে অতিরিক্ত নৌকো চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদি দেখা যায়, কোনও পরীক্ষার্থী দেরি করে ফেলেছে, প্রয়োজনে সেই একজন পরীক্ষার্থীকে নিয়েই নৌকো তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেবে। সেজন্য অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না। এমনিতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নৌকোয় এক টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। নবদ্বীপ ও মায়াপুর লঞ্চের ক্ষেত্রে নেওয়া হয় দুই টাকা। তবে পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা নৌকো রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকেও ঘোষণা করা হচ্ছে। কুয়াশার কারণে অনেক সময় নদীর কূল কিনারা কিছুই দেখতে না পাওয়ায় নৌকা ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। স্বরূপগঞ্জের ছাত্রছাত্রীদের সেই সময়ে গৌরাঙ্গ সেতু হয়ে ঘুরে যেতে হবে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে। অন্যদিকে কুয়াশার কারণে যদি মায়াপুর থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে মায়াপুর হুলোরঘাট হয়ে স্বরূপগঞ্জ রেল বাজার ঘাটে তাদের পৌঁছে দেওয়া হবে। যেহেতু জলঙ্গি নদীর ওই ঘাটের এপার ওপারের দূরত্ব মাত্র দু’ মিনিট। সেই ঘাট থেকেই পরীক্ষার্থীরা টোটো অটোতে ঘুর পথে গৌরাঙ্গ সেতু হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে পারবেন। উল্লেখ্য, এবছর নবদ্বীপ শহর ও ব্লক মিলিয়ে রেগুলার ও সিসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ২৩৫৭ জন। এদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১০৮৯ এবং ছাত্রী ১২৬৮ জন। শহর ও ব্লক সব মিলিয়ে মোট সাতটি পরীক্ষা কেন্দ্র করা হয়েছে।



