Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবার কাঁকসার দেউলপার্কে হচ্ছে চা চাষ

এবার কাঁকসার দেউলপার্কে হচ্ছে চা চাষ
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: সাধারণত পাহাড়ী ঠান্ডা আবহাওয়াতেই চা ও কফির চাষ ভালো হয়। তবে এবার কাঁকসার দেউল পার্কে পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো হয়েছে চাগাছ। সব ঠিক থাকলে এই চা বাজারজাত করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। এক ব্যক্তি শিলিগুড়ি গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে চায়ের বাগান দেখে দেউল পার্কের ভিতরে চা চাষ করার উদ্যোগ নেন। কথা বলা হয় উত্তরবঙ্গের চা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও। এরপরই পার্কের পক্ষ থেকে তিন হাজার চারাগাছ নিয়ে আসা হয়। উত্তরবঙ্গ থেকে শ্রমিক এনে সেই চারা চাগাছ  রোপণ করা হয়। শিলিগুড়ি থেকে চা-চারাগাছ আনতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। মূলত পার্কের ঢালু অংশে প্রায় দুই বিঘা জমিজুড়ে এই চারাগুলি লাগানো হয়েছে। বৃষ্টির জল যাতে ওই চারা গাছের গোড়ায় দাঁড়িয়ে না যায়, তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।  
Advertisement
পার্কের পক্ষে সোমনাথ হাজরা বলেন, কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখানে চা চারা হওয়া সম্ভব। তাছাড়া শিলিগুড়ির সঙ্গে কাঁকসার আবহাওয়ার বিশেষ পার্থক্য নেই। পার্ক কর্তৃপক্ষ বলেন, অনেকের পক্ষেই দার্জিলিং যাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে চা বাগানের পরিবেশ দেখা থেকে অনেকেই বঞ্চিত রয়েছেন। সেই পরিবেশ যদি এখানে গড়ে ওঠে তাহলে পর্যটকরা দেখে আনন্দ পাবেন। তাছাড়া চা চারা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যতে চা উৎপাদন শুরু হলে এলাকার বহু ছেলেমেয়ে কাজের সুযোগ পাবে। 
কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দু’বিঘা জমিতে লাগানো এই প্রোজেক্ট সফল হলে পরবর্তীকালে জমির পরিমাণ বাড়ানো হবে। চা এখানে তৈরি করার জন্য মেশিন লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সমতলে চা চাষের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতার প্রয়োজন বলে জানান ভূগোল শিক্ষিকা সুস্মিতা মুজুরী কোনার। তিনি বলেন, চা চাষে প্রচুর বৃষ্টিপাত লাগে। আবার সতর্ক থাকতে হয় যাতে গাছের গোড়ায় জল না জমে। জল জমলে গাছ পচে যাবে। তাছাড়া সূর্যের ব্যাপক তাপ চা গাছ সহ্য করতে পারে না। সেজন্য চা বাগানের মধ্যে মধ্যে বড় গাছ লাগানো হয় ছায়ার জন্য। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, চা চাষের জায়গায় ‘স্প্রিঙ্কলার্স’ বা জলের ঘূর্ণি যন্ত্র বসিয়ে কৃত্রিম সেচের পরিকল্পনা রয়েছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ