Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবার গোষ্ঠী-বিরোধের প্রভাব পড়ল বোর্ড মিটিংয়েও, এলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলার

এবার গোষ্ঠী-বিরোধের প্রভাব পড়ল বোর্ড মিটিংয়েও, এলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলার
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: খড়্গপুর পুরসভায় তৃণমূলের গোষ্ঠী-বিরোধের প্রভাব পড়ল পুরসভার বোর্ড মিটিংয়েও। গোষ্ঠী বিরোধের জেরে অধিকাংশ দলীয় কাউন্সিলার মঙ্গলবার বোর্ড মিটিং বয়কট করেন। সূত্রের খবর, শাসক দলের ২৪জনের মধ্যে ন’জন ও বিরোধীদের ন’জন কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। এদিন পানীয় জল, আবর্জনা, পূর্ত, হাউস ফর অল সহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে দুপুর ২টোয় বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছিল। বোর্ড মিটিং শুরু হওয়ার কিছু পরে বিরোধী কাউন্সিলাররা হাজির হয়ে গেলেও অধিকাংশ তৃণমূল কাউন্সিলারের দেখা মেলেনি। সূত্রের খবর, সোমবার এক দলীয় কাউন্সিলারের অফিসে জড়ো হয়ে অধিকাংশ তৃণমূল কাউন্সিলার এদিনের মিটিং বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। 
Advertisement
তৃণমূল কাউন্সিলার প্রবীর ঘোষ বলেন, আমরা অধিকাংশই এদিন বোর্ড মিটিংয়ে যাইনি। আর এক কাউন্সিলার তপন প্রধান বলেন, যিনি দলের সহ সভাপতির বিরুদ্ধে বলেন, তিনি তৃণমূলটা করেন কিনা সন্দেহ আছে। কাউন্সিলার চন্দন সিং বলেন, যিনি অভিভাবক অর্থাৎ চেয়ারপার্সন সবাইকে নিয়ে চলতে পারছেন না। তাই কাউন্সিলাররা যাননি। এব্যাপারে যা জানাবার আমরা দলকে জানাব। অধিকাংশ কাউন্সিলারই বলেন, উনি নিজের ইচ্ছেমতো পুরসভা চালাচ্ছেন। সিআইসি সদস্যদের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দলের বাকি কাউন্সিলারদের উনি কাউন্সিলার বলেই মনে করেন না। 
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের মার্চ মাসে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলার নিয়ে এই পুরবোর্ড গঠন করে তৃণমূল। রাজ্যের নির্দেশে চেয়ারম্যান করা হয় প্রদীপ সরকারকে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই অধিকাংশ দলীয় কাউন্সিলার তাঁর বিরুদ্ধে দলের কাছে অনাস্থা আনেন। ফলে মাত্র আট মাসের মাথায় তাঁকে সরে যেতে হয়। দলের নির্দেশে চেয়ারম্যান হন কল্যাণী ঘোষ। এক বছর যেতে না যেতেই তাঁর বিরুদ্ধেও জোট বাঁধতে শুরু করেন অধিকাংশ দলীয় কাউন্সিলার। দেড় বছরের মাথায় বোর্ড মিটিং বয়কট করে এক প্রকার তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থাই প্রকাশ করলেন তাঁরা। 
এই ঘটনায় নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, গোষ্ঠী-বিরোধের জন্যই এই শহরে তৃণমূলের এমন দশা। লোকসভা, বিধানসভা ভোটে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত হতে হয়। কর্মীরা বলেন, কল্যাণী ঘোষরা প্রদীপবাবুর বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছিলেন। এখন আবার কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে প্রদীপবাবুরা জোট বেঁধেছেন। 
বিরোধীদের মতে, তৃণমূলের গোষ্ঠী বিরোধের জেরে শহরের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। যাঁরা বোর্ড চালাচ্ছেন, তাদের মধ্যেই যদি বিরোধ লেগে থাকে, তাহলে পুরসভা চলবে কী করে? বিজেপির অনুশ্রী বেহেরা বলেন, এদিন বিরোধীরা ছিলাম বলে ওদের মুখ রক্ষা হয়েছে। নয়তো বোর্ড মিটিংই  করতে পারত না। বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের মধু কামি বলেন, ওঁরা কেন আসেননি ওঁদের দলই বলতে পারবে। তবে মিটিং করতে গেলে ১২ জনের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। শাসকদলের ন’জন ও আমরা বিরোধীরা ন’জন ছিলাম। চেয়ারপার্সন অবশ্য দাবি করেন, তৃণমূলের ১০জন কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। দলের কাউন্সিলার পূজা নাইডু বলেন, আমি মিটিংয়ে ছিলাম না। মিটিংয়ে কী হয়েছে তাও আমি জানি না। পরে চেয়ারপার্সনের কাছে আসি। তখন আমাকে দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া হয়। চেয়ারপার্সন বলেন, অনেকে ব্যক্তিগত কারণে আসতে পারেননি।
সম্পর্কিত সংবাদ