নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম রেল পথ। ভারতের যেকোনও জায়গা থেকে কোচবিহার থেকে অসমের গুয়াহাটি পৌঁছতে হলে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন হয়ে আসতে হয়। তারপর সেখান থেকে যাওয়া যায় উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন দিকে। এছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের বাকি রাজ্যগুলিতে রেল যোগে পৌঁছতে হলেও এনজেপি, নিউ কোচবিহার হয়ে যেতে হয়। তাই এই লাইনের গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে বৈদ্যুতিক লাইন, ডবল লাইন বসানোর কাজ হয়েছে। এবার এনজেপি থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত বসানো হচ্ছে অটোমেটিক সিগন্যাল। যার মধ্যে এনজেপি থেকে নিউ কোচবিহার পর্যন্ত বসেছে এমন সিগন্যাল। বাকি নিউ কোচবিহার থেকে গুয়াহাটি পর্যন্তও কাজ শুরু হবে এরমধ্যেই, জানিয়েছে বলে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট রুটে অটোমেটিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু হলে ট্রেনের গতি যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনই দুর্ঘটনা এড়ানোও সহজ হবে।
Advertisement
এদিকে, সেভক-রংপো নিউ লাইন প্রোজেক্ট রুটে রেলের কাজও অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। দুর্গম এলাকায় পাহাড়ের ভিতর টানেল কেটে, সেতু নির্মাণ করে এই কাজ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এই কাজও শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে রেলের।উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলেন, এনজেপি থেকে নিউ কোচবিহার পর্যন্ত অটোমেটিক সিগন্যাল বসানো হয়েছে। কেবল বসানো সহ অন্যান্য কাজ চলছে। এবার নিউ কোচবিহার থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত রেল পথেও অটোমেটিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা বসানো হবে। সেভক-রংপো নিউ লাইন প্রোজেক্টের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। সেতুর নীচের দিকের কাজ হয়েছে। উপরের কাজ চলছে। ২০২৫ সালে কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগনো হচ্ছে।
এনজেপি থেকে নিউ কোচবিহার হয়ে প্রতিদিন প্রচুর ট্রেন গুয়াহাটি বা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জায়গায় চলাচল করে। সেই সব ট্রেনই মূলত এই এলাকাগুলির যাত্রীদের দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র উপায়। তাই এই রেলপথের নিরাপত্তা, গতি ইত্যাদি বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, সেভক-রংপো রুটে মোট ৪৫ কিমি রেল পথ নির্মাণের জন্য মোট ৩৯ কিমি টানেল রয়েছে। তারমধ্যে ইতিমধ্যেই ৩৬ কিমি টানেল নির্মাণের কাজ হয়ে গিয়েছে। মাত্র তিন কিমি টানেল নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। ১৩টি বড় সেতু ও ১০টি অপেক্ষাকৃত ছোট সেতু নির্মাণের কাজ রয়েছে। যেগুলির নীচের দিকের কাজ শেষ হয়েছে। এখন উপরের দিকের কাজ চলছে। সেইসঙ্গে পাঁচটি স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। খরচ হবে মোট ১২ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।



