Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব মেদিনীপুর: চল্লিশ হাজার ভোটারের নথি ফের ভেরিফিকেশনের নির্দেশ কমিশনের

পূর্ব মেদিনীপুরে ৪০হাজার ভোটারের নথি পুনরায় ভেরিফিকেশন করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন।

পূর্ব মেদিনীপুর: চল্লিশ হাজার ভোটারের নথি ফের ভেরিফিকেশনের নির্দেশ কমিশনের
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে ৪০হাজার ভোটারের নথি পুনরায় ভেরিফিকেশন করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইলের কাছে বিধানসভাভিত্তিক ভোটারদের লিস্ট পাঠানো হয়েছে। কমিশনের চেকিংয়ে পর্যাপ্ত নথি না থাকা, সন্দেহ তৈরি হওয়া সহ নানা কারণে ৪০হাজার ভোটারের নথি পুনরায় ভেরিফিকেশনের নির্দেশ এসেছে। সেই লিস্ট ১৬টি বিধানসভার ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের(ইআরও) কাছে পাঠানো হয়েছে। এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে বলেও নির্দেশ এসেছে। শুক্রবার এনিয়ে তৎপর ছিল জেলা প্রশাসন। দফায় দফায় মিটিং করেন জেলাশাসক।

Advertisement

জেলাশাসক বলেন, নো ম্যাপিং এবং লজিকাল ডিপক্রিপেন্সি, উভয়ক্ষেত্রে নোটিস পাওয়া প্রায় ৪০হাজার ভোটারের নথি পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ এসেছে। সেই কাজ দ্রুত শুরু হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরে ৪২হাজার ভোটারকে নো ম্যাপিং নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া, ৫লক্ষ ২৬হাজার ভোটারকে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নোটিস পাঠানো হয়। প্রায় দু’মাস ধরে বিডিও অফিসে শুনানি হয়েছে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটার সংখ্যা বিপুল থাকায় জেলাজুড়ে আড়াইশোর বেশি টেবিলে শুনানি হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শুনানির কাজ শেষ হয়। সেইসঙ্গে ভোটারদের জমা দেওয়া নথি ভেরিফিকেশন করে আপলোড করা হয়। সেইসব নথি যাচাইয়ের কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পর্যবেক্ষক সুপার চেকিং করছেন। জানা গিয়েছে, চেকিংয়ে বেশকিছু বিষয় কমিশনের চোখে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুনরায় ভেরিফিকেশন করার নির্দেশ এসেছে। হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, মহিষাদল, পাঁশকুড়া পূর্ব প্রভৃতি বিধানসভায় এই সংখ্যা বেশি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সুতাহাটা বিডিও অফিসে ফর্ম-৬ বাতিল নিয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের সঙ্গে ১৫৩নম্বর বুথের বিএলও-র মারমুখী পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিডিও অফিসের মধ্যেই রণংদেহি ছবি ভিডিওগ্রাফি হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের অন্দরে হইচই ফেলে দিয়েছে। হলদিয়া বিধানসভার ১৫৩নম্বর বুথ কুমারচকের ১৩জন নতুন ভোটারের জন্য ফর্ম-৬ জমা করেন। বিএলও সঞ্জয় মিদ্যার মাধ্যমে সেইসব ফর্ম জমা পড়ে। তারপর একযোগে ১০জন বাতিল সংক্রান্ত মেসেজ পান। সঞ্জয়বাবু বাতিলের কারণ জানতে এইআরও সৃজিতকুমার মিশ্রের কাছে যান। তখনই দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সৃজিতবাবু দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পাল্টা সঞ্জয়বাবু তাঁর সঙ্গী একজনকে ওই ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করতে নির্দেশ দেন। এনিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। এনিয়ে ব্লক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অফিসার তথা এইআরও সৃজিতবাবুকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
শুক্রবার সুতাহাটার বিডিও সৌমিত্র মুদলি এনিয়ে ওই বিএলওকে ডেকে পাঠান। কেন এইআরও-র সঙ্গে এরকম আচরণ করেছেন তা জানতে চান। সঞ্জয়বাবু বলেন, ১৮উত্তীর্ণ ১৩জন ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম-৬ জমা করেছেন। তার স্বপক্ষে সব নথি ছিল। কিন্তু, তাঁদের নাম তালিকায় তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। প্রত্যেকে বাতিল বলে মেসেজ পেয়েছেন। তারপর তাঁরা আমার বাড়িতে এসে এনিয়ে জানতে চান। এইআরও-র কাছ থেকেই বাতিল হয়েছে বলে জেনেছি। আমি বাতিলের কারণ জানতে চাইতেই আমার উপর মারমুখী হন ওই অফিসার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ