শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: সকালের ঝকঝকে রোদেও বিনো জর্জের মুখে চিন্তার মেঘ। ইস্ট বেঙ্গলের কেরালাইট কোচের উদ্বেগ স্বাভাবিক। চোট-আঘাতে জেরবার তাঁর ফরোয়ার্ড লাইন। লক্ষ্যভেদের লোক খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। শুক্রবার ঘরোয়া লিগে ইস্ট বেঙ্গলের প্রতিপক্ষ সুরুচি সঙ্ঘ। বিনোর দলের দুই প্রধান স্ট্রাইকারই অনিশ্চিত। আগের ম্যাচে মেসারার্সের বিরুদ্ধে জাল কাঁপানো মনোতোষ মাজি আনফিট। এদিন অনুশীলনও করেননি তিনি। জেসিন টিকের গোড়ালিতে চোট। হাল্কা প্র্যাকটিস করেই রিহ্যাবে ছুটলেন। পরিস্থিতি বুঝে তাঁকে ব্যবহারের পরিকল্পনা টিম ম্যানেজমেন্টের। একান্তই না পারলে নবাগত অ্যান্ড্রুজ ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। লাল-হলুদ জার্সিতে ডেভেলপমেন্ট লিগে খেলেছিলেন তিনি। ম্যাচের আগে বিনো জর্জের মন্তব্য, ‘দলে সমস্যা রয়েছে। তবে ভালো ফলের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’
প্রথম ম্যাচে মেসারার্সকে ৭ গোলের মালা পরিয়ে লিগ অভিযান শুরু করে ইস্ট বেঙ্গল। দলের আসল শক্তি মাঝমাঠ। বিশেষ করে তন্ময় ও নাসিবের কম্বিনেশন অন্যতম সেরা। তবে বিনো ডিফেন্স এখনও গুছিয়ে উঠতে পারেননি। চাকু মান্ডি ও মনোতোষদের ভুল বোঝাবুঝিতে বার তিনেক গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল মেসারার্স। সুরুচির বিরুদ্ধে দুর্গ অটুট রাখাই কোচ বিনোর লক্ষ্য। এই ধরনের ম্যাচে দ্রুত গোল না পেলে সমস্যা বাড়ে। বিনো জানেন, সময় গড়ানোর সঙ্গেই চাপ বাড়বে ইস্ট বেঙ্গলের উপর। বিপক্ষের পায়ের ভিড়ে ফাঁকা জায়গা পাওয়াই সমস্যা। তাই তন্ময়, গুইতে, নাসিবদের দিয়ে মাঝমাঠের রাশ দখলে রাখতে মরিয়া তিনি। পাশাপাশি উইংয়ে সায়ন ও আমনকে দৌড় করিয়ে বিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে চান বিনো। উইথড্রল ফরোয়ার্ডের জায়গায় আজাদকে তৈরি করতে মরিয়া থিঙ্কট্যাঙ্ক। কিন্তু অত্যধিক বল হোল্ড করার প্রবণতা সমস্যার কারণ।
অন্যদিকে, গত ম্যাচে কালীঘাট এমএসকে ৪ গোলে বশ মানায় সুরুচি। ইস্ট বেঙ্গলকেও কড়া টক্কর দিতে তৈরি বাবলু ওঁরাওরা। কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য হুঙ্কার দিয়ে বাজার গরম করে দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, ‘ইস্ট বেঙ্গলকে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। ওদের হারানোর লক্ষ্যেই মাঠে নামব।’
নৈহাটিতে ম্যাচ শুরু বিকেল ৫টা। সম্প্রচার এসএসইএন অ্যাপে।