ইস্ট বেঙ্গল- ৪ : আল আরবি- ১
ইস্ট বেঙ্গল- ৪ : আল আরবি- ১
শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: জ্বলন্ত মশাল, একবুক প্রত্যয়, অনবদ্য প্রত্যাবর্তন— কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এই জয়কে? বুধবার রাতে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই মনের কোণে উঁকি দিচ্ছে সেই গানের কলি, ‘নামীদামি হারল কত বিদেশেরও মাঠে/ লাল-হলুদের কাছে হেরে পিছন দিকে হাঁটে...’।
এই লড়াই শুধু ইস্ট বেঙ্গলের নয়, ভারতীয় ফুটবলেরও। স্বাধীনতা দিবসের আগে লাল-হলুদ ব্রিগেডই স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। কুয়েতের আল আরবি’র বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি হাবাস-ব্রিগেড। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে জিলে এসিএল টু’য়ের মূলপর্বে ইস্ট বেঙ্গল। বৃষ্টিভেজা রাতেও ফুটবলের মক্কায় জ্বলল মশাল। আর তাতেই ছারখার ৬ বিদেশির আল আরবি। স্লোগান তুলে গলা চিরে ফেলা গ্যালারিতে আল জাওরা ম্যাচের স্মৃতি। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা কার্লটন চাপম্যান প্রয়াত। তারার দেশ থেকে দেখলেন তাঁর দল ভিনদেশিদের বিরুদ্ধে আজও দেশের জবাব।
বুধবার গ্যালারিতে লাল-হলুদ পতাকার পাশেই উড়ল ভারতের জাতীয় পতাকা। বৃষ্টিভেজা যুবভারতীতে হাবাস ব্রিগেডকে তাতাতে চেষ্টার কসুর ছিল না সমর্থকদের। এখনও পুরো দল হাতে পাননি লাল-হলুদ কোচ। রক্ষণে নাচোর চোট। নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার এফিয়ংয়ের ভিসা সমস্যা। তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি লাল-হলুদ সারথি। ডিফেন্সিভ থার্ড জমাট রাখতে ৪-৫-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন অভিজ্ঞ কোচ। অন্যদিকে, কুয়েতের আল আরবিতে ৬ বিদেশি। তার মধ্যে ৫জনকে প্রথম একাদশে রাখেন তাদের ক্রোয়েশিয়ান কোচ গোরান সাবলিচ। শুরুতে গোল তুলে নিয়ে ইস্ট বেঙ্গলকে দমিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য ছিল। তবে বিপক্ষ দুর্গে প্রথম মিসাইল হাবাসই ছুড়লেন। ৫ মিনিটে দ্রুত প্রতি-আক্রমণ থেকে বল পেয়েছিলেন রশিদ। টপ বক্স থেকে তাঁর শট রুখে দেন বিপক্ষ গোলরক্ষক। এরপর প্রতিপক্ষ বক্সে ঢুকেও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ জিকসন। গোলের সুযোগ পেয়েছিল আল আরবিও। এক ঝটকায় আনোয়ারকে টলিয়ে গোলমুখ প্রায় খুলে ফেলেছিলেন কিনান মালেকো। তাঁর টোকা গোললাইন থেকে গ্রিপ করেন গিল। প্রথমার্ধের শেষদিকে অরক্ষিত মালেকোর হেড বাইরে যায়। ইথিওপিয়ার এই প্লে-মেকার কলকাতায় খেলে যাওয়া ফিকরুর বন্ধু। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চমক। রামিরেজ, জেসিন, বিপিনের দুরন্ত প্রতি আক্রমণে আল আরবি রক্ষণ ফালাফালা। বিপিন সহজতম সুযোগ নষ্ট করতেই মাথায় হাত হাবাসের। এই পর্বে রশিদ, জেসিনরা তুবড়ির মতো জ্বললেন। আল আরবির ফুটবলাররা দীর্ঘদেহী। বিপক্ষ রক্ষণকে গার্ডারের মতো স্ট্রেচ করতেই চাপ বাড়ল গোরান ব্রিগেডের উপর। দলটা পুরো ফিট নয়। তা সত্ত্বেও ইস্ট বেঙ্গলের লড়াই অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। তবে ৭৭ মিনিটে বড়ো চেহারার মালেকোকে রুখতে গিয়ে ফাউল করে বসলেন সন্দীপ মান্ডি। স্পটকিক কাজে লাগাতে ভুল হয়নি ইওয়ালার (১-০)। অনেকেই ভেবেছিলেন ম্যাচ ওখানেই শেষ। কিন্তু ৮৯ মিনিটে রশিদের সেন্টারে দুরন্ত হেডে গোল জয় গুপ্তার (১-১)। ৯০ মিনিটে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই পর্বে একপেশে লড়াইয়ে ম্যাচ পকেটে পুরল লাল-হলুদ ব্রিগেড। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে রশিদের দুরন্ত ভলিতে লিড নেয় ইস্ট বেঙ্গল (২-১)। এরপর শেষবেলায় ডেভিড (৩-১) ও দানুর (৪-১) গোলে ইতিহাসের পাতায় ফের নাম লেখাল ইস্ট বেঙ্গল। প্রথমবারের জন্য এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্যায়ে পৌঁছে গেল মশালবাহিনী।