ইস্ট বেঙ্গল- ৩ : রেলওয়ে এফসি-০
(সায়ন-২, নাসিব)
ইস্ট বেঙ্গল- ৩ : রেলওয়ে এফসি-০
(সায়ন-২, নাসিব)
অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, নৈহাটি: খেলার শেষে ম্যাচের সেরার পুরস্কার হাতেও আক্ষেপ যাচ্ছিল না সায়ন ব্যানার্জির। মুখে যন্ত্রণার হাসি নিয়ে বললেন, ‘ইস, হ্যাটট্রিক মিস হয়ে গেল।’ শেষ পর্বে তাঁর শট রেল গোলরক্ষকের হাতে লেগে বেরিয়ে গেলে ফিরতি বল জালে জড়ান নাসিব। ইস্ট বেঙ্গলের বাকি দু’টি গোল সায়নের। তাই মঙ্গলবার নৈহাটিতে রেলওয়ে এফসিকে সহজেই হারাল ইস্ট বেঙ্গল। এই জয়ের সৌজন্যে ৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এ’র শীর্ষে উঠে এল মশাল বাহিনী। তবে এখনই বিনো জর্জের দলের সুপার সিক্স নিশ্চিত, তা বলা যাবে না। কারণ লাল-হলুদ ব্রিগেডের বড় কাঁটা সুরুচি সঙ্ঘ (৭ ম্যাচে ১৫), পুলিস (৮ ম্যাচে ১৫) ও পাঠচক্র (৭ ম্যাচে ১৫)।
এদিন প্রথম একাদশে একাধিক বদল করেছিলেন কোচ বিনো জর্জ। কার্ড সমস্যা কাটিয়ে দলে ফেরেন প্রভাত লাকরা ও ডেভিড। এছাড়াও চলতি মরশুমে ঘরোয়া লিগের প্রথম ম্যাচ খেললেন বিষ্ণু। মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শৌভিক চক্রবর্তী। শুরু থেকেই ম্যাচের দখল ছিল ইস্ট বেঙ্গলের। প্রথম গোল ২৫ মিনিটে। পেকা থেকে আজাদ হয়ে বল যায় সায়নের কাছে। ঠান্ডা মাথায় জাল কাঁপান আসানসোলের তরুণ তুর্কি (১-০)। তিন মিনিট পরেই ফের তাঁর লক্ষ্যভেদ। এবার বিষ্ণুর মাপা ক্রস থেকে হেডে বল জালে জড়ান তিনি (২-০)। এরপর ডেভিডের ফ্রি-কিক সেভ করেন রেলওয়ে গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে তাই স্কোরলাইনে বদল হয়নি।
বিরতির পরও আক্রমণে চাপ রেখেছিল ইস্ট বেঙ্গল। কিন্তু এই পর্বে রক্ষণে ভিড় বাড়ায় রেলওয়ে এফসি। তাই ডেভিডদের সব আক্রমণই ডিফেন্সিভ থার্ডে প্রতিহত হয়। এরই মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন লাল-হলুদের চাকু মাণ্ডি। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ রেলের দলটি। বরং প্রতি-আক্রমণ থেকে ম্যাচের শেষলগ্নে নাসিবের গোলে ব্যবধান বাড়ায় ইস্ট বেঙ্গল (৩-০)। ম্যাচ শেষে লাল-হলুদের কোচ বিনো জর্জ বলেন, ‘দলের খেলায় খুশি। তবে এখনই অঙ্কের দিকে তাকাচ্ছি না। সব ম্যাচই আমাদের কাছে ফাইনাল।’
ইস্ট বেঙ্গল: গৌরব, সঞ্জীব, প্রভাত (চাকু), জোসেফ, বিক্রম, শৌভিক, পেকা (তন্ময়), সায়ন, আজাদ (নাসিব), বিষ্ণু ও ডেভিড (মনোতোষ)।