সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, মারগাও: সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ারের মৃত্যুবার্ষিকীতে বুধবার ছুটির মেজাজে গোয়া। ছবির মতো ডন বস্কো কলেজও খাঁ খাঁ করছে। সকালের কাটফাটা রোদে কলেজ সংলগ্ন মাঠে চূড়ান্ত মহড়ায় ব্যস্ত লাল-হলুদ শিবির। যুদ্ধকালীন তত্পরতা কোচ অস্কার ব্রুজোঁর। ঘামে ভেজা জার্সিতে পুরো মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। সিচুয়েশন প্র্যাকটিসের ঠিক আগে হাতের ইশারায় পুরো টিমকে হার্ডলে ডেকে নিলেন স্প্যানিশ কোচ। কোচের চোখে তখন আগামীর রণনীতি। ইঙ্গিত সুস্পষ্ট, ‘পাঞ্জাবের কাউন্টার অ্যাটাক বন্ধ করতে হবে। যেন মাঝমাঠেই তারা খেই হারিয়ে ফেলে। আর উইং থেকে বরাবর আক্রমণ শানিয়ে বিপক্ষ চক্রব্যূহ ভেঙে ফেলো’— এমনটাই হয়তো অস্কারের পেপটক। যা সহজেই জ্বালিয়ে দিল ফুটবলারদের বুকের মশাল। মোদ্দা কথা, বৃহস্পতিবার নেহরু স্টেডিয়ামে সুপার কাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে পাঞ্জাব বধের জন্য তৈরি ইস্ট বেঙ্গল। আর এই মেগা ম্যাচ শুধু দুই আইএসএল ক্লাবের লড়াই নয়। দুই ধুরন্ধর কোচের মগজাস্ত্রের ডুয়েলও বটে। অস্কার ব্রুজোঁর আক্রমণাত্মক ফুটবল বনাম পানাজিওটিস ডিলস্পোরিসের রক্ষণ জমাট রেখে প্রতি-আক্রমণের!
পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচে ফেভারিট ইস্ট বেঙ্গল। আইএসএলে শেষ চার ম্যাচে পাল্লা ভারী মশাল বাহিনীর দিকেই। ইস্ট বেঙ্গল জয়ী ২ বার। আর পাঞ্জাবের জয় ১। বাকি ১টি ম্যাচ ড্র। কিন্তু সমস্যাটা হল, পরিসংখ্যান দিয়ে ফুটবল হয় না। চলতি সুপার কাপে পাঞ্জাব যা ফর্মে আছে, তাতে হিসেব পাল্টে দিতে সক্ষম তারা। গ্রুপ স্টেজের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী বেঙ্গালুরুকে ছিটকে দিয়েছে পানাজিওটিস-ব্রিগেড। আন্ডারডগ হলেও তাদের মানসিকতা, ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী।’ সুপার কাপের গ্রুপ স্টেজে একটিও গোল হজম করেনি পাঞ্জাব। রক্ষণভাগে মিতেই, বিজয়রা দুরন্ত ফর্মে আছেন। কোচ পানজিওটিস সাধারণত ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজান। লক্ষ্য একটাই, রক্ষণ জমাট রাখা। শুধু তাই নয়, প্রতি-আক্রমণেও সমানভাবে বিপজ্জনক সুহেল, নুসুঙ্গুসিরা। তারপর আবার সুপার কাপের আগে নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড বেদে ওসুজি স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে অস্কারের ব্রুজোঁর প্রধান শক্তি অবশ্যই মাঝমাঠ। রশিদ-সাউল-মিগুয়েল ত্রয়ী ছন্দে থাকলে প্রতিপক্ষের কপালে দুঃখ রয়েছে। তাঁরা মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেন। পাশাপাশি তাঁদের ডিফেন্স চেরা থ্রু দিয়েই উইংয়ে ফুল ফোটান নাওরেম মহেশ সিং ও বিপিন সিং। আনোয়ার-সিবলের উপস্থিতিতে রক্ষণভাগও রকসলিড। উইং-ব্যাক জয় গুপ্তার চোট নিয়ে শঙ্কা ছিল। বুধবার প্র্যাকটিস করেছেন তিনি। তবে ম্যাচে হয়তো লালচুংনুঙ্গা শুরু করবেন। অপর উইং-ব্যাক রাকিপ। তবে ভেদশক্তির সমস্যা চিন্তায় রাখছে স্প্যানিশ কোচকে। তাছাড়া ক্লান্তির কারণে বৃহস্পতিবার অনুশীলন করেননি হামিদ। সাইডলাইনেই ছিলেন। তবে সেমি-ফাইনালে তাঁর খেলার ব্যাপারে আশাবাদী শিবির। একান্তই তিনি না পারলে প্রথম একাদশে শুরু করবেন হিরোশি। মাঠ ছাড়ার আগে কোচ ব্রুজোঁ বলছিলেন, ‘মেগা ম্যাচের জন্য তৈরি আমার ছেলেরা। তবে পাঞ্জাবও ভালো টিম। গ্রুপ পর্বে ভালো খেলেছে ওরা। সেমি-ফাইনালের আগে দু’টি নতুন বিদেশি এসেছে। সবমিলিয়ে উপভোগ্য লড়াই হবে।’
খেলা শুরু বিকেল চারটেয়। সম্প্রচার
স্টার স্পোর্টস খেল ও জিওহটস্টারে।