


শিবাজী চক্রবর্তী নৈহাটি
মেসারার্স- ১ : ইস্ট বেঙ্গল: ৭
নৈহাটি স্টেশন থেকে মিনিট দশেক দূরত্বে বঙ্কিমাঞ্জলি স্টেডিয়াম। রথের দিন দুপুরের পর আপ ও ডাউন লোকালে ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের ভিড়। ঘরোয়া লিগের প্রথম ম্যাচে পতাকা, ড্রাম, লাল-হলুদ জার্সির ছড়াছড়ি। অনুরাগীদের হতাশ করেননি জেসিন, তন্ময়রা। মেসারার্সকে ৭ গোলের মালা পরিয়ে লিগে অভিযান শুরু করল ইস্ট বেঙ্গল। জিলিপি আর পাঁপড়ের সঙ্গে বাড়তি প্রাপ্তি সেভেন স্টার পারফরম্যান্স। তবে মোবাইল অ্যাপে অনেকেই ম্যাচ দেখতে পাননি। তা নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ। নগদ ৫০০ টাকা খরচ করে অ্য্যাপে কুপন কাটতে হচ্ছে। তাও টেলিকাস্টের দফারফা। সম্প্রচারকারী সংস্থা জানিয়েছে, সার্ভারের সমস্যায় বিপত্তি।
৪ জুন অনুশীলনে নামে ইস্ট বেঙ্গল। দল এখনও তৈরি নয়। তা বলে মেসারার্সের বিরুদ্ধে রোলার চালাতে অসুবিধা হয়নি। বৃষ্টিভেজা মাঠে গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় নেয় মশালবাহিনী। বরং গোলের প্রথম সুযোগ পায় মেসারার্সই। ২০ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া সুরচন্দ্র সিংয়ের শট বার কাঁপিয়ে বাইরে যায়। এর মিনিট চারেক পরে লিড পায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। গুইতের ছোট্ট মাইনাস জালে জড়াতে ভুলচুক করেননি মনোতোষ মাজি (১-০)। দশ মিনিট পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন সায়ন বানার্জি (২-০)। এক্ষেত্রে নাসিব রহমানের ওভারহেড পাস বিপক্ষ গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে গোলে পাঠান তিনি (২-০)। মেসারার্সের জারিজুরি ওখানেই শেষ। ৩৮ মিনিটে জাল কাঁপান গুইতে (৩-০)।
বিরতির পর জেসিন নামতেই আরও চাঙ্গা ইস্ট বেঙ্গল। ৪৮ মিনিটে তন্ময়ের দুর্বল প্লেসিং বিপক্ষ গোলকিপারের হাতের তলা দিয়ে জালে প্রবেশ করে (৪-০)। পাড়া ফুটবলের গোলকিপারও এমন গোল খাবেন না। ৬৪ মিনিটে পঞ্চম গোলের নেপথ্যে কেরালাইট কম্বিনেশন। আজাদের পাস থেকে জাল কাঁপান জেসিন (৫-০)। তিন মিনিট পরেই ৬-০ করেন তিনিই। খেলার গতির বিরুদ্ধে একটি গোল শোধ করেন অ্যান্ডি (৬-১)। সংযোজিত সময়ে সপ্তম গোল সুমনের। এদিকে, টিম লিস্টে ইস্ট বেঙ্গল ম্যানেজারের জায়গা ফাঁকা দেখে অনেকেই অবাক। ব্যক্তিগত কাজে বিনো শহরের বাইরে। অন্যদিকে, টাকা বাঁচাতে ম্যানেজারের সঙ্গে নাকি এখনও চুক্তি হয়নি। লগ্নিকারী সংস্থা আর কবে পেশাদার হবে?
ইস্ট বেঙ্গল: আদিত্য, জোসেফ, চাকু, মনোতোষ চাকলাদার, সুমন, তন্ময়, নাসিব (কৌস্তুভ), আমন (রোশাল), সায়ন (বিজয়), গুইতে (জেসিন) ও মনোতোষ মাজি (আজাদ)।