সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: মাত্র তিনদিনের প্রস্তুতি। পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো জায়গায় নেই ফুটবলাররা। তা সত্ত্বেও ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে পাঁচ গোলের মালা পরাল ইস্ট বেঙ্গল। বুধবার যুবভারতীতে বেঙ্গালুরুর সাউথ ইউনাইটেডকে কার্যত উড়িয়ে ডুরান্ড কাপের অভিযান শুরু করলঅস্কার ব্রিগেড। লাল-হলুদের হয়ে স্কোরশিটে নাম তুললেন যথাক্রমে লালচুংনুঙ্গা, সাউল ক্রেসপো, বিপিন সিং, দিয়ামানতাকোস ও মহেশ। প্রথমার্ধে প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগালে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ত। লাল-হলুদ স্প্যানিশ কোচ অবশ্য দলের খেলায় সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘মরশুমের প্রথম ম্যাচে এত বড় ব্যবধানে জয় অবশ্যই তৃপ্তির। তবে এখনও আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। ক্লাবের ভাগ্য বদলানোই একমাত্র লক্ষ্য।’ শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, ‘আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন। তবে তিনদিনের অনুশীলনে রশিদরা ভালোই খেলেছে।’ এদিন অবশ্য বিষ্ণুর চোট চিন্তা বাড়ান লাল-হলুদ কোচের। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোড়ালিতে চোট পান তিনি। আপাতত কয়েকদিন বিশ্রামে থাকতে হবে এই কেরলাইট ফুটবলারটিকে।
বুধবার যুবভারতী ক্রীড়ঙ্গনে বসেছিল চাঁদের হাঁট। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ও সেনাবাহিনীর শীর্ষকর্তারা। বলে শট মেরে টুর্নামেন্টের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর লাল-হলুদ জার্সিতে অভিষেকেই সমর্থকদের মন জিতলেন মহম্মদ রশিদ, এডমুন্ড, বিপিন সিংরা। পাশাপাশি মরশুমের প্রথম ম্যাচেই গোল করে ও করিয়ে ভরসা জোগালেন দিয়ামানতাকোস। ধারেভারে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই দাপট দেখায় ইস্ট বেঙ্গল। ১২ মিনিটে টপ বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুরন্ত শটে জাল কাঁপান লালচুংনুঙ্গা (১-০)। আর ৩৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান সাউল ক্রেসপো (২-০)। তবে প্রথমার্ধে যেভাবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করলেন ডেভিডরা, তা আগামী দিনে চিন্তার কারণ হতেই পারে। পাশাপাশি বিষ্ণুর জোড়া শট পোস্টে লাগে।
বিরতির পর কিছুটা দাঁড়িয়ে পড়ে ইস্ট বেঙ্গল। এই পর্বে ফিটনেসের ঘাটতি ছিল প্রবল। পাশাপাশি বিষ্ণুর চোট বিকল্প পথে হাঁটতে বাধ্য হন অস্কার। একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তনের পথে হাঁটেন অস্কার। দিয়ামানতাকোস, নন্দ ও জিকসনকে মাঠে নামান তিনি। এই পর্বে নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। তবে কোনওভাবেই কোনওকিছু দানা বাঁধছিল না। ৭২ মিনিটে আরও দু’টি চেঞ্জ করেন অস্কার। আনোয়ার ও এডমুন্ডের পরিবর্তে মাঠে নামেন লাকরা ও বিপিন। অল্প সময়েই লাল-হলুদ জার্সিতে অভিষেকে নজর কাড়লেন মুম্বই সিটি এফসি’র প্রাক্তন উইঙ্গার। গোলও করলেন। ৭৯ মিনিটে বাঁদিক থেকে দিয়ামানতাকোসের ঠিকানা লেখা পাস পেয়ে নিখুঁত প্লেসিং বিপিনের (৩-০)। ৮৭ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ৪-০ করেন দিয়ামানতাকোস। গ্রিক স্ট্রাইকারের শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের হাত ফস্কে জালে জড়ায়। আর ৯০ মিনিটে কর্নার থেকে বিপিনের পাস ধরে দুরন্ত শটে প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন মহেশ (৫-০)।
ইস্ট বেঙ্গল: দেবজিৎ, রাকিপ, রায়না, আনোয়ার (লাকরা), লালচুংনুঙ্গা, রশিদ, সাউল (জিকসন), মহেশ, বিষ্ণু (নন্দ), এডমুন্ড (বিপিন) ও ডেভিড (দিয়ামানতাকোস)।