নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সব কিছু ঠিক থাকলে ১ সেপ্টেম্বর নমিনেশন পর্ব শুরু। চলবে ১৪ তারিখ পর্যন্ত। তারপর স্ক্রুটিনি, প্রার্থীদের নাম ঘোষণা এবং ২২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন। আপাতত সিএবি ভোটপর্বের এটাই নির্ঘণ্ট। স্পোর্টস বিল আইনে পরিণত হওয়ায় বিসিসিআই কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেও থাকছে নজর। নির্বাচন পিছিয়ে অক্টোবরেও হতে পারে। তবে সিএবি’র শাসকগোষ্ঠী লোধা আইন মেনে সেপ্টেম্বরেই বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরিয়া। সেই মতো নির্বাচনী অফিসারও নিযুক্ত হয়ে গিয়েছে।
বঙ্গীয় ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার সর্বোচ্চ পদে মনোনয়ন জমা দেবেন সৌরভ। ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবও সমর্থন জানিয়েছে মহারাজকে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর সভাপতি হওয়া তাই শুধু সময়ের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, ‘সিএবি নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান জানতে চাইছিল অনেকেই। সেটা স্পষ্ট করে দিতে চাই। সৌরভ গাঙ্গুলি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হবেন। আমরা তাঁকে সমর্থন করছি। সৌরভকে বলেছি, আপনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। সাপোর্ট না করার কোনও কারণ নেই। এটাও কথা হয়েছে, বাকি চারটি পদাধিকারীর ঠিক করার আগে অন্যদের মতো আমাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন সৌরভ।’ অভিষেক ডালমিয়া ভোটে দাঁড়ালে কি সমর্থন করবে ইস্ট বেঙ্গল? ইস্ট বেঙ্গলের শীর্ষকর্তার স্পষ্ট জবাব, ‘একজনকে সমর্থন করছি, তাহলে আর একজনকে সমর্থন করব কীভাবে? অভিষেক এসেছিল গত বছরের একটি ঘটনা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি মেটাতে।’
ইস্ট বেঙ্গলের শীর্ষকর্তাকে পাশে পাওয়া মানে সৌরভের কাজটা আরও সহজ হয়ে যাওয়া। তবুও নির্বাচনের আগে কোনও খামতি রাখছেন না মহারাজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার ঝলক দেখা গেল বিসিরায় ক্লাব হাউসের গ্রাউন্ড ফ্লোরে। নীল টি শার্ট, কালো জিন্স পরে সৌরভ বসে সাদা সোফার মাঝখানে। আর তাঁকে ঘিরে সিএবি’র সদস্যরা। তবে ইতিহাস বলছে, সিএবি নির্বাচনে চাকা ঘুরতে বেশি সময় লাগে না। টি-২০ ম্যাচের মতোই শেষ বলে হয় ম্যাচের ফয়সালা। সেই সম্ভাবনা অবশ্য এবার নেই। কারণ, সভাপতি পদপ্রার্থী যে স্বয়ং সৌরভ। তবুও তিনি সতর্ক ও সাবধানী। নিবিড় জনসংযোগই তাঁর বড় হাতিয়ার। কিন্তু তিনি একা জিতলে তো হবে না, জেতাতে হবে পুরো প্যানেলকে। সেটাই এবারের সিএবি নির্বাচনে সৌরভের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
লোধা আইনে ভোট হলে সহ-সভাপতি, সচিব, যুগ্মসচিব এবং কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচন হবে। তাছাড়া থাকবে অ্যাপেক্স কমিটি। দাবিদার অনেক। সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে —এই ফর্মুলাতেই বাজিমাত করত চান সৌরভ।