Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

স্পর্ধার মশাল জ্বেলে শেষ চারে ইস্ট বেঙ্গল, সমর্থকদের জয় উপহার অস্কারের

ঘনঘন ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন রেফারি বেঙ্কটেশ। ডাগ-আউটে যেন আর তর সইছে না অস্কার ব্রুজোঁর। কখনও হাঁটছেন তো কখনও সহকারীকে ডেকে নিচ্ছেন। তারই মধ্যে লম্বা বাঁশি।

স্পর্ধার মশাল জ্বেলে শেষ চারে ইস্ট বেঙ্গল, সমর্থকদের জয় উপহার অস্কারের
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় সরকার , কলকাতা: ঘনঘন ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন রেফারি বেঙ্কটেশ। ডাগ-আউটে যেন আর তর সইছে না অস্কার ব্রুজোঁর। কখনও হাঁটছেন তো কখনও সহকারীকে ডেকে নিচ্ছেন। তারই মধ্যে লম্বা বাঁশি। নিমেষে গর্জে উঠল গ্যালারি। আর দু’হাত শূন্যে ছুড়ে সেই আবেগে গা ভাসালেন লাল-হলুদ স্প্যানিশ কোচ। তাঁর হাত ধরেই দেড় বছর পর ফের ডার্বি জয়ের স্বাদ পেল ইস্ট বেঙ্গল। আর লাল-হলুদ কোচ হিসেবে প্রথম বড় ম্যাচ জিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলেন না অস্কার। বিপক্ষ কোচের সঙ্গে হাত মিলিয়েই ছুটলেন গ্যালারির দিকে। ভাইকিং ক্ল্যাপের মধ্যে দিয়ে ধন্যবাদ জানালেন তিনি। বলতে চাইলেন, ‘এই জয় আপনাদের জন্যই।’

Advertisement

গত বছর কলকাতায় পা রেখেই বড় ম্যাচের ডাগ-আউটে হাজির ছিলেন অস্কার। হারের পর সমর্থকদের চোখের জল ভারাক্রান্ত করেছিল তাঁকে। আইএসএলের ফিরতি ডার্বিতে দুরন্ত ফুটবল মেলে ধরলেও, শেষ পর্যন্ত রক্ষণের ব্যর্থতায় আরও একবার খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচকে। তবে রবিবার ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে তৃতীয় প্রচেষ্টায় অবশেষে মর্যাদার মহারণে জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে সমর্থকদের কাছ থেকে বড় ম্যাচ জেতার আব্দার শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়েছিল, তা অবশেষে পূরণ হওয়ায় স্বস্তি পেলেন অস্কার। রবিবারের ম্যাচ জিতে কাঁদলেন অনুরাগীরা। তবে তা বেদনার নয়, আনন্দের। আর তা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র অস্কারের জন্য। লাল-হলুদ কোচও এই জয় সমর্থকদের উৎসর্গ করলেন। অস্কার বলেন, ‘গত মরশুমটা আমাদের ভালো কাটেনি। অনেক সমালোচনা হয়েছিল। এবার আমাদের দল যথেষ্ট ভালো। আজকের পারফরম্যান্সেই তা প্রমাণিত। তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি। দু’দিন পরেই রয়েছে শেষ চারের লড়াই। তাই দ্রুত এই জয় ভুলে আরও এক কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। তবে আমি খুশি যে আজ কলকাতার রং লাল-হলুদ।’
পিতৃবিয়োগের কারণে ডার্বির ৪৮ ঘণ্টা আগে মহম্মদ রশিদ দেশ ফিরে গিয়েছিলেন। তাই বাধ্য হয়ে  ফর্মেশনে বদল আনতে হয় অস্কারকে। তার উপর ম্যাচের মাত্র ১৭ মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন হামিদ। কিছুটা বাধ্য হয়ে শুরুতেই পরিবর্তনের পথে হাঁটতে হয় লাল-হলুদ কোচকে। শেষ পর্যন্ত এটাই শাপে বর হয় ইস্ট বেঙ্গলের। গ্রিক স্ট্রাইকারের জোড়া গোলেই  শাপমোচন। তবে প্রতিপক্ষের অজি ত্রিফলাকে রুখে সিবলে-আনোয়ারদের পারফরম্যান্স সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে ব্রুজোঁকে। প্রথমার্ধে ইস্ট বেঙ্গলের গোল লক্ষ্য করে মাত্র একটি শট তিনকাঠিতে রাখতে সক্ষম মোহন বাগান অ্যাটাকাররা। এমনকী, এক গোল হজম করেও দমে পড়েননি লাল-হলুদ ডিফেন্ডাররা। শেষের দিকে যাবতীয় চাপ কাটিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে অস্কার ব্রিগেড। এই প্রসঙ্গে লাল-হলুদ কোচের সংযোজন, ‘মোহন বাগানের আপফ্রন্ট দেশের অন্যতম সেরা। তাদের বিরুদ্ধে এই জয় বড়ই তৃপ্তির। আমাদের রক্ষণ নিয়ে অনেক কথা উঠেছিল। তবে ছেলেরা যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিয়েছে। ’ একটু থেকে তিনি আরও বললেন, ‘রশিদের না থাকাটা আমাদের কাছে ছিল বড় ধাক্কা। তবে বাকিরা ওর অভাব ঢেকে দিয়েছে। দিয়ামানতাকোস দক্ষ স্ট্রাইকার। হামিদ আর ওর মধ্যে স্বাস্থ্যকর লড়াই চলছে। গত ম্যাচে ইচ্ছে করেই ওকে বাইরে রেখেছিলাম। চেয়েছিলাম, ডার্বিতে তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে। সেটাই হল। আশা করছি, এবার ওকে আরও ভয়ঙ্কর দেখাবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ