কোচ অস্কার ব্রুজোঁর পরামর্শে মহম্মদ রশিদকে সই করিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। প্যালেস্তাইনের এই ফুটবলার মাঝমাঠের ইঞ্জিন। যুদ্ধ-পরিস্থিতি তাঁর গা-সওয়া। হয়তো তাই রশিদের ফুটবলেও লড়াকু ভাব স্পষ্ট। লাল-হলুদ জার্সিতে সুপার কাপ জিততে মরিয়া এই মিডফিল্ডার। মঙ্গলবার ডন বস্কো মাঠে দাঁড়িয়ে বর্তমানকে একান্ত সাক্ষাত্কারে অকপট মহম্মদ রশিদ।
প্রশ্ন: প্র্যাকটিসে সতীর্থদের উদ্ধুদ্ধ করছিলেন। সুপার কাপ সেমি-ফাইনালের জন্য কতটা প্রস্তুত?
রশিদ: দলের সাফল্য শুধুমাত্র কোচ বা প্র্যাকটিসের উপর নির্ভর করে না। একাত্মতা ভীষণ প্রয়োজন। আর ইস্ট বেঙ্গল শুধু দল নয়, আমার পরিবারও বটে। একটা টিম হিসেবে মাঠে নামি। এটুকু বলতে পারি, আমরা তৈরি।
প্রশ্ন: ২০২৩-২৪ মরশুমে সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন ইস্ট বেঙ্গল। ট্রফি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কতটা আশাবাদী?
রশিদ: লম্বা বিরতির পর সুপার কাপের সেমি-ফাইনাল খেলতে হচ্ছে। এটা খুবই সমস্যার। তবে মাঠের লড়াইয়ে ১০০ শতাংশেরও বেশি উজাড় করে দেব। পাঞ্জাব কঠিন প্রতিপক্ষ। এসব ম্যাচে ভুল করলে পস্তাতে হবে। প্রতিটি মুহূর্তে ফোকাস ধরে রাখা সবচেয়ে জরুরি।
প্রশ্ন: ইস্ট বেঙ্গলে এটা আপনার প্রথম বছর। ভারতীয় ফুটবল কেমন উপভোগ করছেন?
রশিদ: দেখুন, আইএসএলের সাফল্য দেখেই ভারতে এসেছিলাম। এখন তা বিশ বাঁও জলে। ভবিষ্যৎ কী? আমরা কেউই এখনও পর্যন্ত জানি না। আশা করব, দ্রুত জট কাটবে। তবে ইস্ট বেঙ্গলে সময়টা দারুণ উপভোগ করছি।
প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় দল নিয়ে কী বলবেন? অনেক বিদেশি প্লেয়ার খেলানোর কথা চলছে!
রশিদ: ভারতে কি প্রতিভার অভাব রয়েছে? সেটা মনে হয় না। স্থানীয় প্রতিভাকে কাজে না লাগিয়ে কখনওই শক্তিশালী জাতীয় দল গড়া সম্ভব নয়। এটা অবশ্য আমার ব্যক্তিগত মতামত।
প্রশ্ন: প্যালেস্তাইন-ইজরায়েলের সংঘাত নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। দেশে আপনার মানুষজন কষ্ট পাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে ফুটবলে ফোকাস ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
রশিদ: আমরা যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই জন্মেছি। যা ঘটছে তা কখনও কাম্য নয়। ২০২৩ সালের দিকে যখন বাড়াবাড়ি হয়েছিল, জানেন তো ঘুমোতে পারতাম না। অদৃষ্টের কাছে প্রার্থনা ছাড়া আর কীই-বা করতে পারি! তবে একজন পেশাদার হিসেবে ফুটবলই আমার পরিচয়। আর তাই পেশার সঙ্গে তঞ্চকতা করব না।