তুষার রক্ষিত: লাল-হলুদ জার্সিতে প্রতিটি ট্রফি জয়ই গর্বের। আর অধিনায়ক হলে তো আর কথাই নেই। সেই স্মৃতি আজীবনের সম্পদ। তেমনই একটি ম্যাচের কথা আজ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব। ১৯৯৫ সাল। নায়িমদা সেবার ইস্ট বেঙ্গলের কোচ। অধিনায়ক আমি।
তুষার রক্ষিত: লাল-হলুদ জার্সিতে প্রতিটি ট্রফি জয়ই গর্বের। আর অধিনায়ক হলে তো আর কথাই নেই। সেই স্মৃতি আজীবনের সম্পদ। তেমনই একটি ম্যাচের কথা আজ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব। ১৯৯৫ সাল। নায়িমদা সেবার ইস্ট বেঙ্গলের কোচ। অধিনায়ক আমি।
আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ইস্ট বেঙ্গলের সামনে ঢাকা মহমেডান। টুর্নামেন্টে দারুণ খেলছে পদ্মাপারের দল। তাই ম্যাচের আগে তুমুল উত্তেজনা। তরুণ বাইচুংয়ের উপর সমর্থকদের প্রবল প্রত্যাশা। যাই হোক, ঢাকা মহমেডানও ছাড়ার পাত্র নয়। বরং গোল করে লিড নেয় তারা। এরপর নানা ঘটনায় পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ। চোরাগোপ্তা ফাউল সামলাতে রেফারিও জেরবার। এরইমধ্যে বাইচুংকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ইস্ট বেঙ্গলের পেনাল্টির দাবিও নাকচ হয়। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, কামব্যাক অসম্ভব। ঘরের মাঠে নিশ্চিত হারের আশঙ্কায় বিমর্ষ রিজার্ভ বেঞ্চ। কর্তাদের মুখ শুকনো। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের অপর নাম ইস্ট বেঙ্গল। তার উপর বিদেশি দলের বিরুদ্ধে খেলা। দেশের সম্মান জড়িত। সমতা ফেরাতে এককাট্টা হয়ে ঝাঁপাই আমরা। আমাদের ১০ জন ফুটবলারকে রুখতেই হিমশিম প্রতিপক্ষ। শেষদিকে দলকে সমতায় ফেরায় রঞ্জন দে। ইস্ট বেঙ্গল হারার আগে হারে না। গোলের পরেই টের পেয়েছিলাম গ্যালারির তেজ! চিৎকারে প্রায় দিশাহারা প্রতিপক্ষ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে। ৩-১ ব্যবধানে জিতে শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয় টগবগিয়ে ফুটতে থাকা ইস্ট বেঙ্গল। যুবভারতী জুড়ে তখন শুধুই উৎসব। হাজার হাজার মশালের আলোয় উদ্ভাসিত গ্যালারি। দেখতে দেখতে ঘোর লেগে যায়। শিহরণ জাগে শরীরে। এই মুহূর্তগুলোই প্রাপ্তি। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আলাদা তৃপ্তি পাই।
আইএফএ শিল্ডে ২৯ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্ট বেঙ্গল। অস্কার ব্রিগেডের কাছে এবারের শিল্ডও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মিগুয়েল, সাউলরা ছন্দে থাকলে ফের মশাল জ্বলতেই পারে।