ইস্ট বেঙ্গল-১ (হামিদ) : নামধারী এফসি-০
ইস্ট বেঙ্গল-১ (হামিদ) : নামধারী এফসি-০
অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়,কলকাতা: লড়াই ইস্ট বেঙ্গলের রক্তে। অতীতে একাধিক ক্ষেত্রে গর্জে উঠেছে লাল-হলুদ গ্যালারি। এবার বাংলা ভাষার জন্য প্রতিবাদে মুখর ইস্ট বেঙ্গল জনতা। বাঙালির প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা এবং ভিন রাজ্যে পুলিসের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের অনুরাগীরা। বুধবার ডুরান্ড কাপের ম্যাচে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের গ্যালারিতে দেখা মিলল প্রতিবাদী ব্যানার। লাল-হলুদ ক্লাব পতাকার উপর সাদা হরফে লেখা, ‘ভারত স্বাধীন করতে সেদিন পরেছিলাম ফাঁসি! মায়ের ভাষা বলছি বলে, আজকে ‘বাংলাদেশী’? আর খেলা শেষে ইস্ট বেঙ্গল জেতার পর এক সমর্থক তো গেয়েই উঠলেন, ‘আমার প্রতিবাদের ভাষা/আমার প্রতিরোধের আগুন...’।
ডুরান্ড কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে আগুন ঝরালেন নবাগত মিগুয়েল। আরেক অভিষেককারী হামিদের গোলই দু’দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিল। তাঁর ছোঁয়াতেই বুধবার ডুরান্ড কাপের ম্যাচে ১-০ গোলে জিতল অস্কার ব্রুজোঁ ব্রিগেড। সেই সুবাদে দু’টি ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করল ইস্ট বেঙ্গল। হামিদ নায়ক হলেও এদিন মিগুয়েলের কথা আলাদা ভাবে বলতেই হবে। লাল-হলুদ জার্সিতে তিনিও অভিষেকেই নজর কাড়লেন। ‘বক্স টু বক্স’ মিডিও হিসেবে ব্রাজিলিয়ান মিডিও সুপারহিট।
৪-৫-১ ফর্মেশনে এদিন শুরু থেকেই পাসের ফুলঝুড়ি ছড়াল মশাল বাহিনী। মাঝমাঠে আলো ছড়াল রশিদ-মিগুয়েল জুটি। পিভটের ভূমিকায় অনবদ্য প্যালেস্তাইনের ফুটবলারটি। তবে গোলের সুযোগ তৈরি হতে সময় লাগল ১৬ মিনিট। বাঁ প্রান্ত থেকে বিপিন সিংয়ের শট গোলকিপারের হাতে গেলে গোলে ঢোকার আগে রুখে দেন নামধারীর ডিফেন্ডার মোরো। এরপর দু’মিনিটের ব্যবধানে মিগুয়েলের দু’টি প্রচেষ্টা পোস্টে প্রতিহত হয়। প্রথমটি তাঁর দূরপাল্লার শট। দ্বিতীয়টি রশিদের সেন্টার থেকে ব্রাজিলিয়ান মিডিওর হেড। ৩৯ মিনিটে বাঁ প্রান্তে ক্রেসপোকে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় ইস্ট বেঙ্গল। মহেশের সেটপিস থেকে নেওয়া স্প্যানিশ মিডিওর হেড দুরন্ত দক্ষতায় সেভ করেন নামধারীর গোলরক্ষক নীরজ। এরপর ফের মিগুয়েলের শট ক্রসপিস বাঁচিয়ে দেয়। ফলে প্রথমার্ধে কোনও দলই গোলের খাতা খুলতে পারেনি।
বিরতির পরেও প্রতিপক্ষ বক্সে চাপ বজায় রেখেছিল ইস্ট বেঙ্গল। কিন্তু নামধারীর দশজনের পায়ের জঙ্গল রুখে দেয় যাবতীয় প্রয়াস। ডাগ-আউটে উদ্বিগ্ন কোচ ব্রুজোঁ ৬০ মিনিটে দিয়ামানতাকোসের বদলে হামিদকে মাঠে নামান। আর এই মাস্টারস্ট্রোকেই খোলে ডেডলক। ৬৮ মিনিটে মিগুয়েলের কর্নার থেকে চিলের মতো ছোঁ মেরে হেডে জাল কাঁপান সুপার-সাব হামিদ (১-০)। এক গোলের লিড পেতেই রক্ষণের ঝাঁপ নামিয়ে দেন অস্কার। শেষলগ্নে মিগুয়েলের পরিবর্তে সিবলেকে নামিয়ে ডিফেন্স মজবুত করেন তিনি।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ, রায়না (এডমুন্ড), আনোয়ার, লালচুংনুঙ্গা, রশিদ, সাউল, বিপিন (নন্দকুমার), মিগুয়েল (সিবলে), মহেশ (শৌভিক), দিয়ামানতাকোস (হামিদ)।