নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২০ সালে আইএসএলে নাম লেখায় ইস্ট বেঙ্গল। তারপর থেকে পয়েন্ট তালিকায় তলানিতেই ঠাঁই হয়েছে শতবর্ষপ্রাচীন ক্লাবটির। এমনকী, ডুরান্ড কাপেও তথৈবচ অবস্থা। সিনিয়র দলের একমাত্র সাফল্য বলতে দীর্ঘ ১২ বছর পর সুপার কাপ জয়। সেই তুলনায় রিজার্ভ দলের পারফরম্যান্স অনেক বেশি উজ্জ্বল। আরএফডিএলের পাশাপাশি ঘরোয়া লিগে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে বিনো জর্জের ছেলেরা। তবে চলতি মরশুমে সেটাও উধাও। চার ম্যাচে ঝুলিতে মাত্র পাঁচ পয়েন্ট। একটি জয়। একটিতে হার। আর বাকি দু’টিতে ড্র। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া লিগে এতটা খারাপ শুরু কখনও হয়নি ইস্ট বেঙ্গলের। গতবার কোনও ম্যাচ না হারা বিনো জর্জ ব্রিগেডের এমন পারফরম্যান্স রীতিমতো উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
মরশুম সবে শুরু। এখনই বর্ষার কালো মেঘের মতোই দুশ্চিন্তা জমছে সমর্থকদের মনে। আইএসলের মতো এবার ঘরোয়া লিগেও ভরাডুবি ঘটলে আর যে পাড়ায় মুখ দেখানো যাবে না। তারপরেও নির্বিকার টিম ম্যানেজমেন্ট। ঘরোয়া লিগের এই হতশ্রী পারফরম্যান্সের পরও কোনওরকম হেলদোল নেই তাদের।
এবারই ফুটবল হেড হিসেবে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন থংবই সিংটো। সিনিয়র দলের পাশাপাশি যুব দলের দেখভাল করার গুরু দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। তবে মরশুমের শুরুতেই প্রশ্নের মুখে এই প্রাক্তন কোচ। আসলে দল গঠনের ক্ষেত্রেই যতই তাঁকে সামনে রাখা হোক না কেন, এবার ইমামি ইস্ট বেঙ্গলের গোটা বিষয়টাই দেখভাল করছেন বিনিয়োগকারী সংস্থার এক তরুণ তুর্কি। তাঁর কথাতেই নাকি নেওয়া হচ্ছে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে তিনি কি সত্যিই ইস্ট বেঙ্গলের ঐতিহ্য ও গরিমাকে যথাযথ গুরত্ব দিচ্ছেন?
গতবার ঘরোয়া লিগে লাল-হলুদ জার্সিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরেছিলেন সায়ন-জেসিন টিকেরা। তবে এবার শুরুতেই সেই ছন্দ উধাও। গত তিনটি ম্যাচে গোল করার লোকের অভাবে ভুগতে হয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেডকে। একইসঙ্গে রক্ষণেও গলদ রয়েছে। প্রথম কয়েক ম্যাচ পরেই টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে বেশ কিছু পজিশনে ফুটবলার সই করানোর কথা বলেছেন বিনো। তবে সূত্রের খবর, রিজার্ভ দলের জন্য বাড়তি খরচ করতে নারাজ ইনভেস্টর। এমনকী, সিনিয়র দলের ফুটবলারও ঘরোয়া লিগে খেলাতে নারাজ তাঁরা। এভাবে চললে ঘরোয়া লিগেও শেষের দিকে ঠাঁই হবে ইস্ট বেঙ্গলের, যা মোটেই ভালো সঙ্কেত নয়। তাই দ্রুত ভুল শুধরে না লিগে আগামী দিনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে শহরে পা রাখলেন ইস্ট বেঙ্গলের দুই বিদেশি দিমিত্রি দিয়ামানতাকোস ও মহম্মদ রশিদ। শুক্রবার মধ্যরাতে আসবেন কোচ অস্কার ব্রজোঁ।