Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মশালের গনগনে আগুনে ঝলমলে ইস্ট বেঙ্গল দিবস, জীবনকৃতি পেলেন তরুণ দে, বলাই মুখার্জি

সোনার হাতে সোনার কাঁকন, কে কার অলংকার! ইস্ট বেঙ্গল দিবসে বর্ষসেরা আনোয়ার আলিকে সম্মানিত করলেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।

মশালের গনগনে আগুনে ঝলমলে ইস্ট বেঙ্গল দিবস, জীবনকৃতি পেলেন তরুণ দে, বলাই মুখার্জি
  • ২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শিবাজী চক্রবর্তী,কলকাতা: সোনার হাতে সোনার কাঁকন, কে কার অলংকার! ইস্ট বেঙ্গল দিবসে বর্ষসেরা আনোয়ার আলিকে সম্মানিত করলেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। লাল-হলুদের সোনার ফ্রেম। সমর্থকদের পালস জানেন আনোয়ার। বললেন, ‘জয় ইস্ট বেঙ্গল। মরশুম সবে শুরু। ডার্বি হেরেছি। কুছ পরোয়া নেহি। লড়াই এখনও বাকি।’ বাঙাল গর্জনে নজরুল মঞ্চ তখন থরথরিয়ে কাঁপছে। আবেগের বিস্ফোরণে চূড়ান্ত পেশাদার হাবাসও অবাক। ইস্ট বেঙ্গলের ১০৭ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এমনই নানা মুহূর্তের কোলাজ। রিমঝিম বৃষ্টিকে ম্লান করে মশালের আগুনে ঝলমলে চারদিক। 

Advertisement

শনিবার সকালে ক্লাব তাঁবুতে উত্তোলিত হয় লাল-হলুদ পতাকা। উৎসবের শুরু। কেক কাটা, প্রদীপ জ্বালানোর পর বিকেলের গন্তব্য দক্ষিণ কলকাতা। ক্যানভাসে লাল-হলুদ আলপনা। শুরুতেই রূপঙ্কর বাগচীর গান। এমন আবহেই টিম হাবাসের প্রবেশ। উৎসাহ বাঁধনছাড়া। ‘সুপার অ্যাচিভার’ পুরস্কার প্রাপক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানিত করলেন হাবাস। প্রসেনজিতের স্মৃতিচারণ, ‘ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে শ্যুটিং করেছি। লাল-হলুদ জার্সি পরার অনুভূতিই আলাদা।’ ‘এক্সেলেন্স ইন মুভি অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন কৌশিক গাঙ্গুলি। পরিচালকের জোব্বা খুলে কৌশিক এদিন কট্টর সমর্থক। জীবনকৃতি সম্মান পেলেন বলাই মুখার্জি ও তরুণ দে। লাল-হলুদ জার্সিতে বহু ঘাম, রক্ত ঝরিয়েছেন দুই সৈনিক। এই সম্মান তাঁদের প্রাপ্য। সেরা সমর্থকের পুরস্কার বেশ অভিনব। বসিরহাট থেকে এসেছিলেন কল্পনা চক্রবর্তী (৭২)। বৃদ্ধার জীবনের রং লাল-হলুদ। ছোট্ট ঋজুর গলাতেও গনগনে আমেজ। হাওড়ার শ্যামল মজুমদার আবেগাপ্লুত। গায়ক মনোময় ভট্টাচার্য কেরিয়ারে বহু পুরস্কার-সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু এদিনেরটা সত্যিই স্পেশাল। বললেন, ‘ইস্ট বেঙ্গলের ম্যাচ চট করে মিস করি না।’ ভারত গৌরব হিসাবে সঞ্জীব সান্যাল ও প্রীতম চক্রবর্তীকে বেছে নিয়েছিল লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীববাবু এলেন ধুতি-পাঞ্জাবি পরে। 
রিজার্ভ দলের পাশাপাশি সিনিয়র দলকে হাজির করে চমক দিলেন ইস্ট বেঙ্গল কর্তারা। নাচো, রামিরেজদের কাছে এই আবেগ সত্যিই অচেনা। ভালোবাসার অত্যাচার সবে তো শুরু। সেরা ক্রিকেটার ঋতম পোড়েল। মহিলা ফুটবলেও ইস্ট বেঙ্গলের সাফল্য নজরকাড়া। সাথী দেবনাথ ইস্ট বেঙ্গলে খেলার জন্য চাকরিও ছেড়েছেন। সেরা উদীয়মান এডমুন্ড লালরিনডিকা। গত মরশুমে আইএসএল জয়ের অন্যতম সৈনিক তিনি। এডমুন্ডের কাঁধে এবারও বড়ো দায়িত্ব। ইস্ট বেঙ্গল দিবস আলো করে রইলেন শ্যাম থাপা, মনোরঞ্জন, ভাস্কর, অলোক, মেহতাবের মতো প্রাক্তনরা। গেরুয়া শিবিরের তাবড় মন্ত্রীদের মুখেও লাল-হলুদের পাশে থাকার আশ্বাস। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ