ইস্ট বেঙ্গল-৩ : এপিএফ -০
(ফাজিলা-২, সিল্কি)
ইস্ট বেঙ্গল-৩ : এপিএফ -০
(ফাজিলা-২, সিল্কি)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষ বাঁশি বাজতেই ভারতের জাতীয় পতাকা জড়িয়ে নিলেন ফাজিলা ইকবাপুট। স্বপ্নের দৌড়ে সওয়ারি সুলঞ্জনা, সিল্কি, জ্যোতিরা। নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে ততক্ষণে সদর্পে উড়ছে লাল-হলুদ পতাকা। স্যাফ উওমেন্স ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেকেই বাজিমাত ইস্ট বেঙ্গলের। নেপালের এপিএফ ক্লাবকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে সেরার সেরা অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজের দল। পুরুষ ও মহিলা দল মিলিয়ে লাল-হলুদের ক্যাবিনেটে এখন পাঁচটি আন্তর্জাতিক ট্রফি। এর আগে নেপালের মাটিতে ওয়াই ওয়াই কাপ ও সান মিগুয়েল ট্রফি জিতেছিল ইস্ট বেঙ্গল। সবমিলিয়ে ভারতীয় ফুটবলে তীব্র হতাশার মাঝে ফাজিলাদের পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে সিলভার লাইন। স্যাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন মশালবাহিনী। সবচেয়ে বড় কথা ৫টি ম্যাচে ক্নিনশিট বজায় রাখার পাশাপাশি ১৬টি লক্ষ্যভেদ করেছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। সর্বাধিক গোলদাতা উগান্ডার ফাজিলা (৯)। ফাইনালেও জোড়া গোল করে মশাল জ্বাললেন তিনি। এই জয়ের পর মহিলা দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উৎসাহেই বাংলায় চালু হয়েছে কন্যাশ্রী কাপ।
নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই দাপট ছিল ইস্ট বেঙ্গলের। ২১ মিনিটে ওভারহেড লব ধরে দুরন্ত ভলিতে জাল কাঁপান ফাজিলা (১-০)। ৩৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়াল সিল্কি দেবী। এক্ষেত্রে সৌম্যা গুগুলথের সেন্টার থেকে হেডে গোল করেন তিনি (২-০)। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফের ফাজিলার পালা। এক্ষেত্রে তাঁর নীচু শট জালে আছড়ে পড়ে (৩-০)। তবে দায় এড়াতে পারেন না নেপালের গোলরক্ষক। এরপরেই প্রতিপক্ষের সব জারিজুরি শেষ। বরং হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন ফাজিলা। মাঝমাঠে সিল্কি দেবী চোট পেয়ে উঠে যাওয়ার পর কিছুটা অবিন্যস্ত দেখায় মাঝমাঠ। তবে রক্ষণের দৃঢ়তায় ফাটল ধরাতে ব্যর্থ প্রতিপক্ষ। ম্যাচের পর উচ্ছ্বসিত কোচ অ্যান্ড্রুজ জানান, ‘সব কৃতিত্ব ফুটবলারদের। বিদেশের মাঠে ট্রফি জয়ের স্বাদই আলাদা।’ কলকাতায় ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতেও উৎসবের পরিবেশ। শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী উদ্যোগ নিলে সাফল্য আসবেই। গোটা দলকে আন্তরিক অভিনন্দন। লগ্নিকারী সংস্থাও যথেষ্ট সাহায্য করেছেন। ওঁদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’ সোমবার দুপুরে ক্লাব তাঁবুতে পতাকা উত্তোলন করা হবে।