সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: তালিকায় নাম থাকলেও বাড়ি জোটেনি। সোমবার দুপুরে বিষ্ণুপুর শহরের সত্যপীরতলায় মাটির বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়ল। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল আড়াই বছরের এক শিশুকন্যা। বিজেপি কাউন্সিলার যেতেই বাড়ি না পাওয়ার ক্ষোভ উগরে দিলেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চম্পা মাঝি নামে এক মহিলার বাড়িটি অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। টালির ভাঙা ছাউনিতে জল পড়ছে। ত্রিপল ঢেকে রেখেছেন। চারদিকের দেওয়ালে ফাটল রয়েছে। আগেই একদিকের দেওয়াল ভেঙে গিয়েছে। এদিন ঘরের বারান্দায় একদিকের দেওয়াল ধসে পড়ে। ওই সময় চম্পাদেবীর আড়াই বছরের নাতনি বারান্দায় খেলছিল। আওয়াজ পেয়ে তিনি তাঁর নাতনিকে কোনওরকমে সরিয়ে প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ৬ নম্বর কাউন্সিলার বিজেপির শঙ্খজিৎ রায় আসেন। তাঁর কাছে সরকারি প্রকল্পের পাকা বাড়ির দাবি জানান। যদিও তিনি এব্যাপারে দরখাস্ত লেখার পরামর্শ দেন। আপৎকালীন একটি ত্রিপল দিয়ে যান।
বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গোস্বামী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বাড়ির টাকা আটকে রেখেছে। তবে বাংলা আবাস যোজনায় চম্পাকে যাতে বাড়ি দেওয়া যায় সে ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপৎকালীন হিসেবে ত্রিপল দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলার বিজেপির শঙ্খজিৎ রায় বলেন, রাজ্য সরকারের দুর্নীতির কারণে কেন্দ্র আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখেছে। রাজ্য সরকারের বাংলা আবাস যোজনাতেও স্বজনপোষণ হচ্ছে। সেই জন্য প্রকৃত প্রাপকরা বাড়ি পাচ্ছে না। আপৎকালীন হিসেবে একটি ত্রিপল দেওয়া হয়েছে। তিনি যাতে পাকা বাড়ি পান তার জন্য পুরসভায় দরবার করা হবে। চম্পাদেবী বলেন, পাঁচ বছর ধরে শুনে আসছি পাকা বাড়ি দেওয়া হবে। একে একে দেওয়াল ধসে পড়ছে। গত বছর বর্ষায় বাড়ির একদিকের দেওয়াল পড়েছে। এদিন বারান্দার দেওয়াল পড়ে গিয়েছে। কোনওরকমে নাতনিকে বাঁচাতে পেরেছি। কাউন্সিলার এসেছিলেন। তাঁর কাছেও পাকা বাড়ির দাবি জানিয়েছি। সবাই কেবল আশ্বাসই দিচ্ছে। এখন ছেলে ও পরিবার নিয়ে কীভাবে থাকব সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। স্থানীয় বাসিন্দারা ভোম্বল মাঝি বলেন, শুধু চম্পাদেবীই নন, আমাদের পাড়ার অনেকেই পাকা বাড়ি পাননি। স্থানীয় কাউন্সিলার ও পুরসভায় বহুবার জানানো হয়েছে। তাঁরা নাম লিখে নিয়ে গিয়েছেন। ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু, আজ পর্যন্ত বাড়ি পাননি।
বর্ষা এলেই আমরা ভয়ে ভয়ে থাকি। এদিন চম্পাদেবীর বাড়ির বারান্দায় মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে। সেখানেই শিশুটি খেলছিল। ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গিয়েছে। বড় বিপদ হতে পারত। -নিজস্ব চিত্র