Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ঠান্ডা লাগলেই কান বন্ধ, মুক্তি পেতে কী করবেন?

বছর তিনেক বয়স আদ্রিতার। মাঝরাতে কানে বেদম ব্যথা। কানে গরম তেল, জল ঢালা— কিছুই বাদ গেল না। ওই করেই কাটল রাত!

ঠান্ডা লাগলেই কান বন্ধ, মুক্তি পেতে কী করবেন?
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পরামর্শে ইএনটি চিকিৎসক ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ রজত গোস্বামী। 

Advertisement

বছর তিনেক বয়স আদ্রিতার। মাঝরাতে কানে বেদম ব্যথা। কানে গরম তেল, জল ঢালা— কিছুই বাদ গেল না। ওই করেই কাটল রাত! পরের দিন সকালে ইএনটি (নাক-কান-গলা) বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে আদ্রিতার পরিবারকে বেশ ধমক খেতে হল। মেয়ের কানের ব্যথা উপশমে আগের দিন রাতে যা যা করা হয়েছিল তাতে, উল্টো বিপত্তির আশঙ্কা ছিল প্রবল। ডাক্তারবাবু জানালেন, আপাতত চিন্তার কিছু নেই। ঠান্ডা লেগেই এই বিপত্তি! ঠান্ডা! বড় মজার একটি শব্দ। ডাক্তারবাবুরা এই শব্দটি দিয়েই রোগীদের উদ্বেগকে ঠান্ডা করেন। গরমকালেও ঠান্ডা, শীতকালেও ঠান্ডা,  ঠান্ডা খেলেও ঠান্ডা, বর্ষাকালেও ঠান্ডা আর ঋতু পরিবর্তনের সময়ও ঠান্ডা! এককথায় সারা বছর জুড়েই ঠান্ডা। আসলে ডাক্তারি শাস্ত্রে ঠান্ডা বলতে বোঝায়, রোগ-জীবাণুর আক্রমণ এবং পরবর্তী কালে সংক্রমণ। এবং এই রোগ জীবাণুগুলি ঢোকে  নাক–মুখ দিয়ে, তারপর কিছু চলে যায় গলা হয়ে নীচের দিকে ব্রঙ্কাস এবং লাং-এ। আবার কিছু যায় কান ও গলার একটি সংযোগনালী ইউস্টেশিয়ান টিউব দিয়ে সোজা মধ্যকর্ণে। তখনই কান হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। দু-একদিনের মধ্যে তীব্র ব্যথা শুরু। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু না হলে কানের পর্দা ফুলে যায়। ফেটে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। প্রথমদিকে জলের মতো রস গড়ায়, পরবর্তীকালে ঘন পুঁজ। শিশুরা আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি। কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এছাড়া তাদের ইউষ্টেশিয়ান টিউবটি আকৃতিতে সোজা, বড়দের মতো এস আকৃতির প্যাঁচানো নয়। কাজেই রোগ-জীবাণু নাক এবং গলা থেকে সরাসরি চলে যায় মধ্য কর্ণে। ডাক্তারি পরিভাষায় মধ্য কর্ণের এই অসুখটিকে বলে অ্যাকিউট ওটাইটিস মিডিয়া। 
চিকিত্‍সা বলতে রয়েছে নাকের ড্রপ, প্যারাসিটামল এবং অ্যান্টি অ্যালার্জিক ট্যাবলেট বা সিরাপ। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক। প্রশ্ন হল রোগ প্রতিরোধ কি সম্ভব? ঠান্ডা লাগার জন্য কান বন্ধ হয়ে গেলে বা ব্যথা হলে প্রথমে গরম সেক দিতে হবে, সঙ্গে স্টিম ইনহেলেশন। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। এর পাশাপাশি বড় বড় হাই তুললে, চিউয়িং গাম খেলে এবং কানের পাশে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করলে সমস্যার বেশ কিছুটা উপশম মিলতে পারে। 
লিখেছেন: ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ