বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে ই-কেওয়াইসি নিয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা আগেই ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। তারা জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক এখনও রান্নার গ্যাসের ই-কেওয়াইসি জমা করেননি, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে তাঁরা আর গৃহস্থের জন্য ঘোষিত দরে রান্নার গ্যাস কিনতে পারবেন না। তা কিনতে হবে বাজারদরে। এর অর্থ, গ্রাহককে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে ডেলিভারি নিতে হবে সিলিন্ডার। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে নয়া ঝঞ্ঝাট! ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের দাবি, যাঁরা ইতিমধ্যেই ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁদের কারও কারও তথ্য গ্যাস সংস্থার সার্ভার থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে। মূলত ইন্ডিয়ান অয়েলের সার্ভারের ক্ষেত্রে এই সমস্যা ধরা পড়েছে। চলতি সপ্তাহে কলকাতা এসেছিলেন এই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার শীর্ষপদস্থ কর্তারা। তাঁদের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়েছেন ডিস্ট্রিবিউটররা। তাঁদের দাবি, সংস্থার কর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, সংশ্লিষ্ট সার্ভারের প্রযুক্তিগত সংস্কার সম্ভব হলে এই সমস্যা মিটবে। তবে সেই কাজ সম্পন্ন করতে পুজো পেরিয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। এই অবস্থায় গ্যাস বুকিং করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।
ঠিক কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে? ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের কথায়, বহু গ্রাহক তাঁদের মোবাইল ফোন থেকে গ্যাস বুকিং করতে পারছেন না। অথচ সেই মোবাইল নম্বর থেকেই তাঁরা এতদিন গ্যাস বুক করে এসেছেন। অনেকে সম্প্রতি ই-কেওয়াইসি জমা করেছেন যথাযথভাবে। তারপরও কেন গ্যাস বুকিং করা যাচ্ছে না, তা জানতে অনেকে ছুটে আসছেন ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে। তখন জানতে পারছেন, তাঁদের কেওয়াইসি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে! ডিস্ট্রিবিউটররা জানাচ্ছেন, তেল সংস্থার সফটওয়ার দেখাচ্ছে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের নাকি ‘লো’ কেওয়াইসি। যার অর্থ জমা দেওয়া কেওয়াইসির সম্পূর্ণ তথ্য ডেটাবেসে নেই। সাধারণত মুখের ছবি স্ক্যান করে কেওয়াইসি ‘আপডেট’ করা হয়। আধারসহ গ্রাহকের বিভিন্ন তথ্যও যাচাই করা হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কারও মোবাইল নম্বর ডেটাবেস থেকে সরে গিয়েছে। কারও আবার আধার নম্বরটি উধাও। অনেকের ক্ষেত্রে শেষবার জমা করা মোবাইল নম্বর সরে গিয়ে আগে ব্যবহার করা মোবাইল নম্বর চলে এসেছে ডেটাবেসে। ফলে বর্তমান নম্বর থেকে বুকিং হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে গ্রাহককে ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে এসে ফের ই-কেওয়াইসি জমা করতে হচ্ছে। ডিস্ট্রিবিউটরদের বক্তব্য, এই সমস্যায় তাঁরাও তিতিবিরক্ত। অনেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ই-কেওয়াইসি জমা করেছেন। ফের সেই একই কাজ করতে হবে জেনে অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে ডিস্ট্রিবিউটরকেই। অথচ এক্ষেত্রে তাঁদের কিছু করার নেই।
একেই গ্যাসের দাম, বুকিংয়ে নিয়ন্ত্রণ, সিলিন্ডার ডেলিভারি নিয়ে সমস্যায় জর্জরিত গ্রাহক। তার উপর কেওয়াইসি সংক্রান্ত এই ঝামেলা তাদের নতুন করে বিপাকে ফেলছে। তেল সংস্থাগুলি কেওয়াইসি না থাকলে চড়া দামে সিলিন্ডার কেনার নিদান দিয়ে রাখায় সাধারণ গ্রাহকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গ্যাস পেতে কোনো সমস্যা হবে না তো? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন!