Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুয়ারে সরকারে ৮ দিনে জমা পড়ল ১৩ লক্ষ আবেদন, শীর্ষে মুর্শিদাবাদ

দুয়ারে সরকারে ৮ দিনে জমা পড়ল ১৩ লক্ষ আবেদন, শীর্ষে মুর্শিদাবাদ
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নবম পর্যায়ের দুয়ারে সরকারের শিবিরে ব্যাপক সাড়া পড়ল সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদে। গত আট দিনে মুর্শিদাবাদ জেলায় ৮২২২টি স্থায়ী শিবির হয়েছে। সেখানে মোট ১১ লক্ষের বেশি মানুষ হাজির হয়েছিলেন। পাশাপাশি মোবাইল ক্যাম্পের উপরও বাড়তি জোর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তাতেই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে ব্যাপক ভিড় উপচে পড়ে। মোট আবেদন জমা পড়েছে ১৩ লক্ষের বেশি। প্রশাসন সূত্রে দাবি, আবেদনের সংখ্যার নিরিখে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। 
Advertisement
এবার দুয়ারে সরকার শিবির থেকে ৩৭টি সরকারি প্রকল্পের আবেদন নেওয়া হয়। সব থেকে বেশি আবেদন পড়েছে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে। মুর্শিদাবাদ জেলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে মোট সাত লক্ষ ছাড়িয়েছে আবেদনের সংখ্যা। পাশাপশি লক্ষ্মীরভাণ্ডার প্রকল্প পাওয়ার জন্য ১ লক্ষ ২৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া বার্ধক্যভাতা প্রকল্পের আবেদন জমা পড়েছে ১ লক্ষ ৩৩ হাজারের বেশি। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে নতুন করে জমা করা আবেদনের বার্ধক্যভাতা অনুমোদন দেয়নি সরকার। যে কারণে, এবার বার্ধক্যভাতায় আবেদনের সংখ্যা বেশি। জেলা প্রশাসনের আধিকারিক(এনডিসি) সঞ্চয়ন পান বলেন, রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এবার অনেক বেশি পরিমাণে মোবাইল ক্যাম্প করা হয়। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার সব থেকে বেশি আবেদন জমা পড়েছে জলঙ্গি ব্লক থেকে। সব মিলিয়ে মোট ৭১ হাজার আবেদন জমা পড়েছে সেখানে। সীমান্তবর্তী চরের এলাকায় অনেকগুলি মোবাইল ক্যাম্পের আয়োজন হয়। সেখানে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছে বহু মানুষ। স্থানীয় প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারা অনেকেই প্রথমবার দুয়ারে সরকারের শিবিরে হাজির হয়ে একাধিক প্রকল্পে আবেদন করেছেন। 
জলঙ্গির চর পরাশপুরেরে বাসিন্দা ইকবাল শেখ বলেন, প্রথমদিকে যে দুয়ারে সরকার হয়েছিল তাতে আমরা খুব একটা সুযোগ পাইনি। দীর্ঘ মাঠ ও নদীপথ অতিক্রম করে ব্লক অফিসে গিয়ে আমাদের আবেদন জমা করতে হয়। সরকার এখন বাড়ির কাছে এসে পরিষেবা দিচ্ছে। এবারই সবথেকে বেশি আমাদের ব্লকে দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প হয়েছে। আমাদের খুব সুবিধা হয়েছে। 
গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা ছাড়াও শহরবাসীও এবার দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে ভিড় করেছেন। বহরমপুর শহরের ২৮টি ওয়ার্ড থেকে মানুষ শিবিরে এসেছিলেন। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দিয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সুযোগ করে দেয় জেলা প্রশাসন ও পুরসভা। পুর এলাকায় এবার ১৪ হাজারের বেশি মানুষ শিবিরে হাজির হয়েছেন। মোট সাড়ে ছয় হাজার আবেদন জমা পড়েছে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, শহরে ৩৭ হাজারের কাছাকাছি মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। তারপরেও এবার নতুন করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ১৮৫৬জন আবেদন করেছেন। তারপর বার্ধক্য ভাতায় ২২২৬টি আবেদন জমা পড়েছে। 
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলাজুড়ে যে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে, সেই আবেদন ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখে বেশকিছু প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে সাধারণ মানুষকে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ