অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: ৩০৭ বছরের পুরানো হরিপালের দ্বারিকা চণ্ডীমাতার মন্দির। এই মন্দিরের নাম থেকেই গ্রামের নাম হয়েছে দ্বারহাট্টা। মোবাইল, ইন্টারনেটের যুগে আজও দুর্গাপুজোয় মানবশৃঙ্খলের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয় বার্তা।
অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: ৩০৭ বছরের পুরানো হরিপালের দ্বারিকা চণ্ডীমাতার মন্দির। এই মন্দিরের নাম থেকেই গ্রামের নাম হয়েছে দ্বারহাট্টা। মোবাইল, ইন্টারনেটের যুগে আজও দুর্গাপুজোয় মানবশৃঙ্খলের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয় বার্তা।
হরিপালের দ্বারহাট্টা গ্রামের দ্বারিকা চণ্ডীমন্দিরে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীর সঙ্গে পদ্মফুলের উপর বসে আছেন চার হাতের দেবী। তাঁর তিন হাতে রয়েছে শঙ্খ, চক্র ও পদ্মফুল। আর অন্য হাত দিয়ে আশীর্বাদ করছেন দেবী। এই প্রাচীন মন্দির প্রায় দেড়শো বছর ছিল দেবী মূর্তিহীন। সেই সময় ঘট পুজো হত।
মন্দিরের পুরোহিত কালীপদ বটব্যাল। বয়স ৮০ পেরিয়েছে। প্রায় ৬০ বছর ধরে এই মন্দিরে পুজো করে আসছেন তিনি। কালীপদবাবু বলেন, এই মন্দির সিংহ রায় পরিবারের। এককালে এই মন্দিরের কাছে দিয়েই বইত দামোদর নদ। চাঁদ সওদাগর বাণিজ্য করতে যেতেন এই পথে। শোনা যায়, চাঁদ সওদাগরের সহযোগিতায় সিংহ রায় পরিবার ১৭১৯ সালে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে। দেবীমূর্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১৫০ বছর ঘটেই পুজো হতো। দেবীর নির্দেশে ১৫ বছর আগে ফের মূর্তি তৈরি হয়। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, সন্ধিপুজো— সবই নিষ্ঠার সঙ্গে হয়। নবমীতে বলি হয় এখানে। পঞ্চমুণ্ডের আসন আছে। নিত্যপুজো হয় মন্দিরে। মহালয়ার পরের দিন থেকে বিশেষ পুজোর সূচনা হয়। গ্রামের এই জাগ্রত দেবীর পুজোর বার্তা গ্রামের অন্যান্য মণ্ডপে পৌঁছালে তবেই পুজো শুরু হয় সেখানে। বার্তা পৌঁছানোর জন্য মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার হয় না। আজও গ্রামের মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পুজোর বার্তা মুখে মুখে পৌঁছে দেয় গ্রামের অন্যপ্রান্তে। তারপর চাঁদবাটী, রামহাটিতলা, তালদহ, কামদেবপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় দুর্গাপুজো।
সিংহ রায় পরিবারের সদস্য অমিত সিংহ রায় বলেন, বর্ধমান মহারাজার আমলে এখানকার জমিদার ছিল আমাদের পরিবার। পুরানো টেরাকোটার মন্দির ছিল। সেই টেরাকোটার কাজ প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে। জাগ্রত দেবীকে ঘিরে বহু অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। প্রণামীর বাক্স চুরি করতে ঢুকলেও মন্দির থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি চোর। গ্রামবাসীরাই ধরে ফেলে তাকে। এখানে ষষ্ঠীর দিনে ঘট বসানো হয়। বিজয়ার পর সেই ঘটে থাকা ডাব মাটিতে পুঁতে দিলে তা থেকে নারকেল গাছের জন্ম হয়। সাধারণত এই গাছ হয়ে থাকে নারকেল থেকে। এমন বহু ঘটনার সাক্ষী এই গ্রাম। জাগ্রত এই দেবীকে দর্শন করতে সারা বছরই আসেন বহু মানুষ। তবে দুর্গাপুজোর সময় দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন মন্দিরে। নিজস্ব চিত্র