Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই জল ছাড়ল ডিভিসি, ভাসছে দক্ষিণবঙ্গের বহু এলাকা, জরুরি বৈঠকে মমতা

ভারী বর্ষণ, আর বিভিন্ন জলাধার থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গের প্লাবিত এলাকাগুলির পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই জল ছাড়ল ডিভিসি, ভাসছে দক্ষিণবঙ্গের বহু এলাকা, জরুরি বৈঠকে মমতা
  • ২১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারী বর্ষণ, আর বিভিন্ন জলাধার থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ার কারণে দক্ষিণবঙ্গের প্লাবিত এলাকাগুলির পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শুক্রবার আবহাওয়া উন্নত হলেও, মূলত ডিভিসির ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার কারণে দুর্গাপুর ব্যারেজও জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়ার কিছু অংশে নতুন নতুন এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় হুগলির আরামবাগ মহকুমাজুড়ে প্রাথমিক ও হাইস্কুলগুলিতে ছুটির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাওড়ার আমতা-উদয়নারায়ণপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি দুর্বল নদীবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ শুরু হলেও, ডিভিসি’র জল ছাড়া অব্যাহত থাকায় নতুন বিপদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। এরই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডে সুবর্ণরেখার গালুডি জলাধার থেকে বিপুল জল ছাড়ায় পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ার প্লাবিত এলাকার পরিস্থিতি আরও বিগড়েছে। অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চলের শীলাবতী ও ঝুমি নদীতে জলস্ফীতির জেরে বাঁধ ছাপানো জলে ঘাটাল, খড়ার, গড়বেতা, চন্দ্রকোণার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।  

Advertisement

দক্ষিণবঙ্গের প্লাবিত এলাকাগুলির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে এদিন নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে আরও ত্রাণসামগ্রী যে জেলাগুলি চেয়ে পাঠিয়েছিল, এদিনই তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলি দেখভালের জন্য আলাদা আলাদা করে মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০টি জেলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চার কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারী বর্ষণ, জলাধার থেকে জল ছাড়া ও হড়পা বানের জেরে পশ্চিমাঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি বিগড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া এদিন গড়বেতা ও ঘাটালের বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এখানে মোট ৩২টি ত্রাণ শিবির চলছে। মানসবাবু ঘুরে দেখেন এই এলাকার কয়েকটি শিবির। সেচমন্ত্রী বলেন, ‘একদিকে ডিভিসির তেনুঘাট, আর অন্যদিকে সুবর্ণরেখার গালুডি বাঁধ নাগাড়ে বিপুল জল ছেড়ে চলেছে। ঝাড়খণ্ডের এই দু’টি জায়গায় আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলছেন, ঝাড়খণ্ডের সঙ্গেই বাংলার যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা ইউনিফায়েড কমান্ড হোক এই দুই জলাধারের ক্ষেত্রে। তা মানা হচ্ছে না।’ সেচদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তেনুঘাট ৯০ হাজার কিউসেক এবং মাইথন-পাঞ্চেত মিলিতভাবে ৫৫ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। রাতে তা দুর্গাপুর ব্যারেজে পৌঁছলে, সেখান থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়বে। অপরদিকে গালুডি জলাধার থেকে এদিন সকালে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ফলে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি।
 সঙ্কটে আমতার ভাটোরা।- নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ