নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টানা বৃষ্টি চলছে। সেই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে জল ছাড়ছে ডিভিসি। এদিকে, আগামী সপ্তাহের শেষদিকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিল নবান্ন। শনিবার এ বিষয়ে ১৪টি জেলার জেলাশাসক, সেচ, বিপর্যয় মোকাবিলা, কৃষি সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। হাওড়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর মতো জেলাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেই সময় জলের তোড়ে যাতে কোনও জায়গায় বাঁধের ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকরা যাতে নতুন করে বীজতলা রোপণ করতে পারেন, তার জন্য তাঁদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকদের।
শনিবার মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৬৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। দুর্গাপুর থেকে ছাড়া হয়েছে আরও ৬৫ হাজার ৪০০ কিউসেক জল। এই অবস্থায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। এ বিষয়ে রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে একাধিক কথা বলে গিয়েছেন। ওসব বলে বাংলার মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। অথচ ভাঙনরোধ, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি কথাও উচ্চারণ করেননি তিনি। এর থেকেই স্পষ্ট যে, রাজ্যের মানুষকে ক্ষতির মুখ থেকে রক্ষা করার বিষয়ে তাঁদের কোনও আগ্রহ নেই।
চলতি বছর ৮ জুলাই থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে রাজ্যে। প্লাবিত হয়েছে একাধিক গ্রাম ও শহর। কৃষিকাজ ব্যাহত হয়েছে হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শাকসব্জির। বহু বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্য সরকার এই পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে রিলিফ ক্যাম্প ও কমিউনিটি কিচেন চালু করেছে।