নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে ভালোবাসার মরশুম পা রেখেছে। লাল গোলাপ, গুবলুগাবলু টেডিতে ভেসে যাওয়ার দিন চলেই এল। আবহাওয়া দিচ্ছে চমৎকার সঙ্গ। ভ্যালেন্টাইন’স ডে ভালোই কাটবে বলে আশায় প্রেমিক-প্রেমিকারা। এর মধ্যে কেউ কেউ অবশ্য নাক কুঁচকে বলছেন, ‘এসব ভ্যালেন্টাইন’স ডে মানেই হল ব্যবসা।’ কেউ বলছেন, ‘ব্যবসা হলেও মন দেওয়া নেওয়ার বিষয়টিও জুড়ে থাকে প্রেমদিবসে। এমন একটা ‘মন বোঝার’ দিন বিশেষ করে তুলতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না শহর। তাঁদের জন্য ১৫ কোটি টাকার ডাচ গোলাপ পা দিয়েছে শহরে। রেস্তরাঁ, ক্লাবগুলিতে শুরু হয়েছে ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে স্পেশাল’ অফার, ডিনার। আবার পার্ক সার্কাসের লেডিজ পার্কে এই বিশেষ দিন উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে ফেস্টিভ্যালের। সবমিলিয়ে শহর জমজমাট।
সরস্বতী পুজোর দিনটিকে সাধারণত বাঙালির ভ্যালেন্টাইন’স ডে হিসেবে ধরা হয়। তা বলে ‘আসল’ ভ্যালেন্টাইন’স ডে পালন করবে না বাঙালি? তা কখনও হয়? ফলে গত কয়েকদিন ধরে পুনে-বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে, ট্রেনে চেপে গোছা গোছা ডাচ গোলাপের আগমন ঘটছে শহরে। তা রাজ্যের বিভিন্ন হিমঘরে রাখা ছিল। এবার সেসব হাওড়ার জগন্নাথ ঘাটে এসে উপস্থিত। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে নিয়ে যাওয়াও শুরু করেছেন। মঙ্গলবার পাইকারি বাজারে এক-একটি গোলাপের দাম গিয়েছে, ৩০ থেকে ৪০ টাকা। খুচরো বাজারে দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। সবশুদ্ধ ২৮ রকমের গোলাপ এসেছে বাজারে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের গোলাপ দু’সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে টাটকা। পাপড়ি ঝড়ে না, শুকোয় না, থাকে তাজা। সারা রাজ্য ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক জানিয়েছেন, ‘১৫ কোটি টাকার গোলাপ আমদানি হয়েছে। রোজ ডে’তে গোলাপের চাহিদার অঙ্ক পৌঁছেছিল ৫০ লক্ষের কাছাকাছি।’ হাওড়া আমতার ফুলচাষি অতুল নস্কর বলেন, ‘এখন থেকেই যা চাহিদা দেখছি, এই বছরও গোলাপের বাজার ভালোই যাবে।’ বাজারে যত রঙেরই গোলাপ আসুক না কেন, চাহিদার তুঙ্গে কিন্তু সেই লাল। ফুল ব্যবসায়ী সজল কাপাস বললেন, ‘অবশ্যই লাল গোলাপের কোনও বিকল্প হয় না। তবে দেখছি, হলুদ গোলাপেরও চাহিদা রয়েছে।’
গোলাপ কিনে প্রিয় মানুষের হাতে তুলে দেবেন কোন জায়গায়? তার জন্যই শহরের বিভিন্ন রেস্তরাঁ-ক্যাফে সেজে উঠেছে। পকেটের জোর থাকলেই, আলো-আঁধারির মাঝে তৈরি হবে অপরূপ সব মুহূর্ত। ভালোবাসার শহর কলকাতায় কোনও কিছুরই অভাব নেই। ভালোবাসা অফুরন্ত। ১৪ তারিখ গোলাপ দিয়েই প্রেম সিঞ্চন করতে প্রস্তুত শহর।